ব্রেকিং নিউজ

শিবচরে গণ-উন্নয়ন সমিতির এমডির বিরুদ্ধে গ্রাহক ও শেয়ার হোল্ডারদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

news-details
ক্রাইম নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কয়েক হাজার গ্রাহকের টাকার মুনাফা সমিতিতে জমা না দিয়ে পরিবার নিয়ে নিজেই আত্মসাত করে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালিক (এমডি) আবুল হাসেম মিয়া। আর গ্রহকদের লোকসান দেখিয়ে বোকা বানাচ্ছেন তিনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বড় বড় পদগুলো বছরের পর বছর তার পরিবারের সদস্যরা দখল করে রেখেছেন। অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের উপর নেমে আসে নানা নির্যাতন। 

আজ বুধবার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমিতির সম্পাদক শাহীদা আক্তার মেরিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আবুল হাসেম সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মানে জমি ক্রয় করতে গিয়ে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। সাড়ে ৩ লাখ টাকার জমিতের ভাউচার দেখিয়েছেন প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। এছাড়া বিবিধ উচারের নামে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এছাড়া তিনি খেলাপি সদস্যদের অফিসিয়াল চিঠি দিয়ে মামলার খরচ বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। গ্রাহকের ঋন পরিশোধ হওয়ার পরই চেকের মামলা দিয়ে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন। কারন ঋন দেয়ার সময় তিনি সকলের কাছ থেকে ব্লাংক চেক রেখে দেন। গ্রাহককে এক লাখ টাকা ঋন দেয়া হলে তার হাতে কখনোই এক লাখ টাকা দেয়া হয় না। গ্রহক পেয়ে থাকেন মাত্র ৭৮ হাজার টাকা। বাকি টাকা অগ্রীম মুনাফা বাবদ কেটে রাখেন আবুল হাসেম। কিন্তু গ্রাহককে বোঝানো হয় সঞ্চয় বাবদ ওই টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এছাড়া কখনোই গ্রহকদের ন্যয্য লভ্যাংশ দেয়া হয় না।

শাহিদা আক্তার আরো জানান, তার এই অপকর্মের ব্যপারে প্রতিষ্ঠানের কেউ মুখ খুলতে পারেন না। কারন বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন। এমডি তিনি নিজেই আর বাকি পরিচালক পদে রয়েছেন তার ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনেরা। এছাড়া কাজ না করে ও অফিসে না গিয়ে দৈনিক হাজিরা খাতায় কর্মচারী দিয়ে নকল স্বাক্ষর করিয়ে এমডির মেয়ে লুবনা মল্লিক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসাবে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছেন। তাদের এই অপর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই কর্মচারীদের উপর নেমে অসে নানা নির্যাতন। প্রতিবাদ করায় ইতিমধ্যে অনেকেই চাকুরীচ্যুত হয়েছেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে তাদের।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আবুল হাসেমের শুধু টাকার প্রতি লোভ তা নয়, অফিসের সুন্দরী নারী কর্মচারীদের উপরও তার লোলুপ দৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সময় তিনি কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এতে কেউ রাজী না হলে নানা ভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে চাকরি ছাড়তে হয়। এক নারী কর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় এমডির বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। পরে ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মামলা থেকে রেহাই পান। মজার বিষয় হচ্ছে ওই ২০ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের বিবিধ ভাউচারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। আবুল হাসেম মিয়া পর্দার আড়ালে থেকে তার স্ত্রী সভাপতি রুবিনা ইয়াসমিন ও মেয়ে রুবনা মল্লিক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন অপকর্মের কাজ করে উল্টো তাদের ফাঁসিয়ে দেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও গ্রাহকদের উপর এমডির অত্যচার আরো কয়েক গুন বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাই অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। এই অবস্থায় আবুল হাসেম গংদের দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সমিতির সাধারণ গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।