ব্রেকিং নিউজ

কারাগারে আজহারের সঙ্গে দেখা করলেন আইনজীবীরা

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড আদালত বহাল রাখার পর তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন আইনজীবীরা।

পাঁচজন আইনজীবীর একটি দল আজ শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কারাগারে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারাগারে ১৫ মিনিটের মতো ছিলেন আজহারুল ইসলামের আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার বিষয়ে তাঁদের কথা হয়েছে এবং আজহারুল ইসলাম তাতে সম্মতি দিয়েছেন বলে আইনজীবীদের কাছে জানাতে পেরেছেন তিনি। তবে পরিবারের কেউ রায়ের পর এই জামায়াত নেতার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি বলে জানান জেলার বিকাশ রায়হান।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন তার। আর সর্বসম্মতভাবে একটি অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়। তা ছাড়া খালাসও দেওয়া হয় একটি অভিযোগ থেকে।

যে তিনটি অভিযোগে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে সেগুলো হলো-একাত্তরের ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে গণহত্যা, একই বছরের ১৭ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় এক হাজার দুই শর বেশি লোককে ধরে নিয়ে গণহত্যা এবং ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের চার অধ্যাপক ও এক অধ্যাপক পত্নীকে ধরে দমদম সেতুর কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা। এই তিনটি অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া একাত্তরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি রংপুর শহরের গুপ্তাপাড়ায় একজনকে নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে সর্বসম্মতভাবে।

তবে একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীদের ধরে নিয়ে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগে ২৫ বছরের সাজা থেকে আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে এই রিভিউ আবেদন করা হবে। তবে আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, 'এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাননি আজহারুল ইসলাম। আশা করি, রিভিউ আবেদনে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।'

আর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে আজহারকে। তবে আসামিপক্ষ যদি রিভিউ  আবেদন করে, তবে তার ওপর শুনানি হবে।

একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক রায়ে আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ছয়টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড, একটিতে ২৫ বছর কারাদণ্ড এবং আরেকটিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একটি অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিলেন আসামি।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেছিলেন আজহার। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখার আদেশ দেন। গত বুধবার আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ৩১ অক্টোবর।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে তিনি কারাবন্দি। 


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।