ব্রেকিং নিউজ

নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ

news-details
রাজনীতি

আমাদের প্রতিবেদক

স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হচ্ছে ৭ বছর পর। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন না থাকায় নেতৃত্বে কোন পরিবর্তন ছিলো না। নেতাদের মধ্যে ছিলো হতাশা। দীর্ঘদিনেও নেতৃত্বে পাওয়ার  কোন আশার আলো না দেখে হতাশ হয়েছেন কর্মীরা। সম্প্রতি চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় ফের চাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকলীগ। ১১ ও ১২ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ আর ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সম্মেলন ঘিরে এখন শুধুই প্রস্তুতি পর্বের ব্যস্ততা। পাশাপাশি চলছে নতুন নেতৃত্বের দারুণসব সমীকরন। ইতিমধ্যে ছাপানো হয়েছে পোষ্টার। সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সর্বশেষ ২০১২ সালে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের তৎকালীন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের দ্বিতীয় নেতৃত্ব ছিলেন আ ফ ম  বাহাউদ্দিন নাছিম, সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেবনাথ। সেবা, শান্তি আর প্রগতির স্লোগানে মূল দল আওয়ামী লীগকে রাজপথে শক্তি যোগায় এই সহযোগী সংগঠন। সাম্প্রতিক যুবলীগের নেতৃত্বের নৈতিক স্খলনের কিছুটা কালিমার ছটা লাগে এই সংগঠনেও। তবে শীর্ষ নেতারা বলছেন একজন নেতার কৌশলগত সম্পৃক্ততায় স্বেচ্ছাসেবকলীগকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করানো ঠিক হবে না। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তারা এই খতটুকু কাটিয়ে ওঠতে চান। 

এই সংগঠনটির কর্মীদের প্রত্যাশা নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন। প্রবীনদের অভিজ্ঞতা আর নবীনতে উদ্দম দিয়েই গড়বে একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন। 
এই বিচারে প্রবীন নেতৃত্বের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শুরুর দিকের নেতৃত্বের তালিকায় আছেন সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ। তার সাথে দলের সভাপতি পদ পেতে আগ্রহী মতিউর রমহান, আব্দুল আলীমসহ অনেকেই। তবে চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে নির্মলকে পেছনে পেলে এগিয়ে যাওয়ার মত রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন সম্বলই নেই এসব নেতাদের। সাহস, সততা আর ত্যাগী কর্মীর পরীক্ষায় উর্ত্তিণ সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এক প্রকার নিশ্চিত স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতির পদটি। 
এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের এই গুরুপ্তপূর্ন সহযোগী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য যারা মাঠে নেমেছেন তাদের তালিকাও ছোট নয়। বর্তমান কমিটির দুই সাংগঠনিক সম্পাদক ইতিমধ্যে মূল দলে জায়গা করে নিলেও বাকিরা প্রায় সবাই সাধারণ সম্পাদক পদের প্রতিযোগিতায়। তবে এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন দু:সময়ে দলের জন্য জীবন বাজি রাখা  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু। রাজবাড়ির ছেলে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ টিপু গত দশ বছরে কোন কোন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে  নাম না জড়াননি। সাবেক এই ছাত্রনেতা কোন ভবনে টেন্ডারবাজী বা ঠিকাদারির খাতায়ও নিজের নাম লেখান নি। তাছাড়া  স্বেচ্ছাসবেকলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটিও সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে ও তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক বাদশাকে দেয়া হয়েছে। 
নগর কমিটিতে আছে নবীন প্রবীনের প্রতিযোগিতা। ঢাকা মহানগর উত্তরের কামিটিতে ইসহাক মিয়ার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এক প্রকার নিশ্চিত পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজগঞ্জের সন্তান মনোয়ারুল ইসলাম বিপুলের নাম। মহানগর ও কেন্দ্রের সবার নেতাই তাকে ভালো ছেলে বলে সম্বোধন করেন। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার সময় কেউ মুখ খুলতে রাজী না হলেও কয়েকজন  নেতাকর্মী জানান, নেত্রীর শুদ্ধি অভিযোনের সময়ে এরাই মাঠে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার যোগ্যতার রাখে। ঢাকা দক্ষিণেও নেতৃত্বে নবীন প্রবীনের সমন্বয়ে কমিটিতে স্থান হতে পরে দেবাশীষ বিশ্বাসের সাথে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বা সাবেক ছাত্র  নেতা কামরুল হাসান রিপন,আনিসুজ্জামান রানার। 
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।