গ্রামে ফিরতে পারছেন না ঝালকাঠির সেই লিমন

news-details
দেশজুড়ে

।। ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।।

মামলায় নিষ্কৃতি পেলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বাধার কারণে গ্রামের বাড়ি ফিরতে পারছেন না র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির সেই লিমন হোসেন।

গত শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুতিয়া ইউনিয়নের ইদুরবাড়ি গ্রামে হামলার শিকার হয় লিমনসহ তার পরিবার। আহত অবস্থায় তার বাবাকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় একটি হাসপাতালে।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ মাঠে গরু আনতে গিয়ে র‌্যাবের এক অভিযানে তাদের (র‌্যাব) গুলিতেই একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন তখনকার কলেজছাত্র লিমন হোসেন। তবে এ ঘটনায় উল্টো র‌্যাব লিমনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ফলে দেশব্যাপী সর্বমহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ২০১৪ সালে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে র‌্যাবের সব মামলা থেকে অব্যাহতি পান পা হারানো লিমন হোসেন। এর পর ৯ বছর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঢাকায় আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে ঢাকায়ই শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। কিন্তু মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও আজও নিজ গ্রামে ফিরতে পারছেন না।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই সে সময়ের র‌্যাবের কথিত সোর্স ইব্রাহিম হাওলাদারসহ এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র লিমনদের গ্রামে ফিরতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে আসছে। বাড়ি এলেই হামলা-মামলা ও ঘর পোড়ানোসহ নানাভাবে ৯ বছর ধরে নির্যাতন চলছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে লিমন, তার ভাই সুমন এবং তোফাজ্জেল হোসেন ও মা হেনোয়ারা বেগমকে নিয়ে বাড়ি ফিরলে ইব্রাহিম তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে লিমনদের ওপর হামলা চালান। হামলায় লিমনের বাবা তোফাজ্জেল হোসেন আহত হয়ে বর্তমানে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।

এদিকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইব্রাহিম হাওলাদার দাবি করেছেন, লিমনদের সঙ্গে তাদের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার বিষয়ে তদন্ত এবং লিখিত অভিযোগসাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।