ব্রেকিং নিউজ

আগামীকাল হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় : সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

আগামীকাল বুধবার (২৭ নভেম্বর) বহুল আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।  এ মামলার রায় ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সকাল ৮ টা থেকে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

বেনজীর  বলেন, রায়ের কথা মাথায় রেখে আমরা আজকে থেকেই সর্তকতা অবস্থানে রয়েছি। আগামীকাল রায়ের দিন আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আমরা যতদিন প্রয়োজন মনে করব, ততদিন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জঙ্গিরা যেন কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ না করতে পারে সে জন্য আমরা সব সময় সতর্ক থাকি। আমরা অনেক কাজ করি কিন্তু কখনো জঙ্গিবাদ থেকে আমাদের দৃষ্টির সরাই না।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল আলম ও কৃষ্ণ পদ রায় আদালত পাড়া পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা আগামীকাল আদালতের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে লালবাগ ডিভিশন ও আদালতের ডিসি প্রসিকিউশনকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।

ঢাকার আদালতের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন বলেন, হলি আর্টিসান মামলার রায় উপলক্ষে ডিএমপির দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আদালত পাড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেবেন। হামলার কোন আশঙ্কা নেই। তবুও আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতখানার ওসি মঈনুল ইসলাম বলেন, হাজতখানা থেকে এজলাসে আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০১৬ সালে রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। অস্ত্রের মুখে বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে তারা ২২ জনকে হত্যা করে। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেও হত্যা করে তারা।

গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেন। এ পর্যন্ত মোট ১১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে ৮ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। একই বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের জিআর শাখায় মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

অভিযোগপত্রের ৮ আসামি হলো−হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। তারা সবাই কারাগারে।

ঘটনাস্থলে নিহত ৫ আসামি হলো রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

আর বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ার জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।

আড়াই বছর তদন্তের পর গত বছরের ২৩ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেয় সিটিটিসি। প্রধান আসামিদের মধ্যে পুলিশের অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বিচার শুরু করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান জাকির। তারা সাক্ষ্য ও আলামত বিশ্লেষণে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।