বুড়িগঙ্গা-তুরাগতীরে আরও ১৯ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।। 

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তৃতীয় পর্বের প্রথম পর্যায়ের উচ্ছেদ ও অপসারণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিন বুধবার তুরাগ নদের তীর থেকে আরও ১৯টি ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর রুপনগর থানার রুপনগর এবং সাভার থানার দেউল মৌজা এলাকায় তুরাগ নদের উভয় তীরে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। এটি ছিল চলমান উচ্ছেদ অভিযানের ২৬তম দিন।

বিআইডব্লিউটিএ'র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব এলাকা থেকে ২টি পাকা একতলা ভবন, ৯টি আধাপাকা ভবন, ২টি পাকা সীমানাপ্রাচীর এবং ৬টি টিনের ঘর মিলিয়ে মোট ১৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ৭টি বালুর গদি অপসারণ করা হয়। এছাড়া ৩ একর তীরভূমি অবমুক্ত এবং ২০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার উচ্ছেদকৃত মালামাল নিলামে বিক্রি করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, বুধবার পর্যন্ত মোট ২৬ দিনের উচ্ছেদ অভিযানকালে বুড়িগঙ্গা নদীর কামরাঙ্গীরচর ও খোলামোরা থেকে ধারাহিকভাবে তুরাগ নদের সাভার থানার আওতাধীন বিরুলিয়া এলাকার দেউল মৌজা পর্যন্ত নৌপথের উভয়তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ সময় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগতীর থেকে দুই হাজার ৮৯৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৩৯৪টি পাকা ও ৪৪১টি আধা পাকা ভবন, ১৭৭টি পাকা সীমানা প্রাচীর এবং ১ হাজার ৮৮৬টি অন্যান্য স্থাপনা। অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে ৮০টি স'মিল, ৮টি কারখানা ও ২টি পার্কসহ বহুসংখ্যক টিনের ঘর ও টংঘরও রয়েছে।

এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অবমুক্তকৃত জায়গার পরিমাণ প্রায় ৬৮ একর এবং মোট নিলামের টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৭৬ লাখ ১৬ হাজার (ভ্যাট-আয়করসহ)। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদানসহ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এবারের অভিযানকালে মোহাম্মদপুর বছিলা এলাকায় তুরাগ নদীর একটি চ্যানেল দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা বহুল আলোচিত 'আমিন মোমিন হাউজিং লিমিটেড' নামের হাউজিং প্রকল্পটি সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে ওই এলাকার অবৈধ দখলকৃত নদীতীর অবমুক্ত করার পর স্কেভেটর দিয়ে মাটি অপসারণ করে চ্যানেলটি উদ্ধার এবং সেটাকে নদীর আদি আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া নদীতীর দখল করে অবৈভাবে গড়ে তোলা আরও কয়েকটি হাউজিং প্রকল্পের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কিংবা অপসারণও করা হয়। 


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।