ব্রেকিং নিউজ

ঔষধ-সরঞ্জাম ক্রয় দুর্নীতিতে ৫ মামলার অনুমোদন

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ মূল্যে ওষুধ এবং সার্জিক্যাল ও প্যাথলজি সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইশরাত জাহানসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ১৭ জন বর্তমান চিকিৎসক রয়েছেন। গত ১২ ডিসেম্বর কমিশন থেকে ওই মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যেকোনো সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৪-২০১৫ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত মোট চার অর্থবছরে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনা হয়েছিল এসব সামগ্রী। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারকে ওষুধ সরবরাহের জন্য সাড়ে ১৬ লাখ টাকার স্থলে ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে একই প্রক্রিয়ায় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন হাসপাতালটি ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ২০০০ সালে পুনরায় শুরু হয় এর যাত্রা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হয়। যেমন, ৮২ টাকা মূল্যের পলিস ক্যাথেটার ক্রয় করা হয়েছে ২২৭ টাকায়, ৩১৭ টাকার সার্জিক্যাল সুচারের মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭৬ টাকা, ১০৭ টাকার এট্রোমেটিক ক্রোমিক ক্যাটগাটের ক্রয়মূল্য ৩৮২ টাকা, ৩২ টাকার সেলাই সেট ক্রয় হয়েছে ১৪২ টাকায়, প্রতিটি ব্লাড গ্লুকোজ এস্টিমেশন কিটের নির্ধারিত মূল্য ৩ হাজার ৯৬০ টাকা হলেও কেনা হয় ৭ হাজার ৫৯২ টাকায়, ১ হাজার ১০০ টাকা দামের প্রতিটি এক্স রে ডেভেলপার অ্যান্ড ফিক্সার কেনা হয় ২ হাজার ৫৮২ টাকায়। সলিউশন ফর হিউমেলিজারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৯২ টাকা, কেনা হয় তিন হাজার ৮০৬ টাকায়। প্রতিটি ডিসপোজেবল সিরিঞ্জের নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা ৬০ পয়সা, কেনা হয় ১২ টাকায়। সনি টাইপের ইউএসজি পেপারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩২০ টাকা, কেনা হয় ২ হাজার ৪২২ টাকায়। এভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শতাধিক আইটেমের ওষুধ ও পণ্য কেনাকাটায় আত্মসাৎ করা হয় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি।

২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আজিমপুরের এই মাতৃসদনে রেজিস্ট্রেশন না করার অজুহাতে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর ছিন্নমূল পারভীনকে রাস্তায় বের করে দেয়া হয়েছিল। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রাস্তার ওপরেই বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।