৮ সরকারি অফিসে দুদকের হানা

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা গ্রাহক ভোগান্তি, অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে ৪ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসহ ৮ সরকারি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন - ১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ওইসব অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুদকের পৃথক পৃথক এনফোর্সমেন্ট টিম।

কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালায়। 

অভিযান চলাকালে দৌলতপুরে এক দালালকে গ্রাহকদের নিকট হতে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সময় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে একই অপরাধে দৌলতপুরের এক দালালকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

দুদক ফরিদপুরের জেলা কার্যালয় হতে মধুখালী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদক টিম উক্ত অফিসে গ্রাহক সেবা প্রদানে ব্যাপক অনিয়য়েমর অভিযোগের সত্যতা পায়। তবে দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়।

দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় হতে ফুলবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালানো হয়। টিম অভিযানকালে দেখে, উক্ত অফিসে গ্রাহক ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতার সাথে জড়িত। একটি সেচ প্রকল্পের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের বিষয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানকারী টিম এ অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবে।

এদিক গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা -২ এর একটি টিম আজ এ অভিযান পরিচালনা করে। 

দুদক টিম অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখে, সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট পৌঁছাতে পারেন না, তার পূর্বেই অফিসের কিছু কর্মচারী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমে অনিয়ম বিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি লাইসেন্স বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা গ্রাহকদের নিকট হতে অবৈধভাবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কোন রশিদ প্রদান করা হয় না। উক্ত দপ্তরের লাইসেন্স শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা বজলুর রশিদ এবং লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদের অনিয়মের বিষয়ে দুদক টিম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অবহিত করলে তিনি উক্ত দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

একই টিম পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি পেট্রোল পাম্প নির্মাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখে। 

গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত এসএস পাম্প নামক পেট্রোল পাম্পটি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক একাধিকবার আপত্তি প্রদান সত্ত্বেও নির্মিত হয়েছে এরুপ অভিযোগের বিষয়ে দুদক টিম অবগত হয়। টিম এ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে। যাচাই-বাছাইপূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে এমন একটি অভিযোগ দুদকের গোচরে আসলে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের অনুরোধক্রমে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল উক্ত কলেজে অভিযান চালান এবং ১২১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্যদের সতর্ক করেন।

গত সোমবার দুদক ময়মনসিংহ কার্যালয় থেকে পরিচালিত এক অভিযানে দুদক টিম নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একজন ভুক্তভোগীর নিকট হতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য টাকা গ্রহণের অভিযোগ যাচাই করে। তাকে তিন বছর যাবত পল্লীবিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অযুহাতে ঘুরাচ্ছেন। বিষয়টি উক্ত  অঞ্চলের জিএমকে জানালে,  তিনিদুদক টিমকে অবহিত করেন, ওয়্যারিং রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে এল টি প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগকারীকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে। 


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।