ব্রেকিং নিউজ

বাঁচাতে না মারতে চিকিৎসা দিলো বুঝলাম না : ভিপি নুর

news-details
শিক্ষা

আমাদের প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিলেও নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ নয় বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। ঢামেকের চিকিৎসা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। নুর বলেন, ‘সরকারের ইশারায় মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বাঁচাতে না মারতে চিকিৎসা দিলো বুঝলাম না।’

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নুরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার পর ঢামেক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ভিপি নুর বলেন, ‘হাসপাতালের ট্রিটমেন্ট নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ, আমি পুরোপুরি সুস্থ না। হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিন দিনের চেয়ে শরীরের অবস্থা এখন আরও খারাপ। এখনো নানা জটিলতা আছে।’
 
নুর জানান, হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন পর থেকে তিনি বেশি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যেকোনো কিছুই করা হতে পারে এবং এসবই সরকারের ইশারায় ঘটছে। এ সময় পুরোপুরি সুস্থ হতে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন বলেও জানান ঢাকসু ভিপি।

ঢামেকের সামনে হুইল চেয়ারে বসা ঢাকসু ভিপি ২২ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের নিপীড়নের বর্ণনা দেন। বলেন, ‘২২ ডিসেম্বর দুপুরে যে হামলা হয়েছে সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি জঘন্যতম ঘটনা। পাকিস্তান আমলেও এটা ঘটেনি। ডাকসুর একজন নির্বাচিত ভিপির উপরে ছাত্রলীগ যেভাবে আক্রমণ করেছে তা জঘন্যতম অধ্যায়। এখানে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কথা বারবার বলা হলেও হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ। আমি এখনও ঝাপসা দেখি।’
 
নুর আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন হামলার পরও যদি বিচার না হয়, তাহলে অন্য দল ক্ষমতায় এলে একই ঘটনা ঘটবে।’ এ হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়য়টি ‘আইওয়াশ’ বলেও মন্তব্য করেন ডাকসু ভিপি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে নুর বলেন, ‘প্রথম তিন দিনের পর শরীর আরও খারাপ হয় আমার। মেরে ফেলতে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে। এসব সরকারের ইশারাতেই হয়েছে বলে মনে করি। কারণ, আমরা সরকারের বিশ্বাসভাজন ছাত্রলীগের কার্যক্রমের প্রতিবাদ করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটতে দেখেছে।’

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ‘আইসিটি আইনে মামলা করেছে, যাতে আমাকে কারাগারে রাখতে পারে। দুই মাসের আগে এই আইনে জামিন হয় না। ডাকসুর মেয়াদ আছে তিন মাস। আমাকে কারাগারে রাখার পরিকল্পনা। আমি মনে করি, আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্যই হয়তো তড়িঘড়ি করে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। দেশবাসীর কাছে আহ্বান, আমরা নিজের পরিবারের জন্য কথা বলি না। সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কথা বলি। আমাদের এই বিপদের দিনে, ছাত্রলীগের নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ যদি না দাঁড়ায়, তাহলে কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসবে না।’

গত ২২ ডিসেম্বর দুপুরে ভিপি নুরুলের ওপর হামলা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় নুরুলের সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি কলেজের কিছু ছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।