ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম

news-details
জাতীয়

     ।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

রাজধানীর ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দলিল লেখক ও দালাল চক্ররা তাদের অপকর্ম প্রকাশ্যে চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রনেই চলে ডেমরার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম। এরইমধ্যে ৭টি জাল দলিল সম্পাদন করায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।

জানা যায়, এ ধরনের অনিয়ম জালিয়াতির হোতা কর্মচারী ও দলিল লেখক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাতা গ্রহীতারা বিভিন্ন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলিল সম্পাদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জমির মূল খতিয়ান সাব রেজিঃ অফিসারের নিকট প্রদর্শন করার কথা থাকলেও তা না দেখিয়ে টাকার জালে আবদ্ধ করে রাখে। রেজিঃ দলিল সম্পাদন করার সময় দাতা এবং গ্রহীতা উভয় পক্ষের উপস্থিত থাকার সরকারি নিয়ম থাকলেও উক্ত সিন্ডিকেটের কারণে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন এক পক্ষ উপস্থিত না হলেও দলিল সম্পাদনের কাজ স¤পন্ন করিয়ে দেয়। অনেক দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিয়মিত সাব রেজিঃ অফিসার ডেমরায় না থাকার দরুন সপ্তাহে ২দিন অফিসে রেজিস্ট্রার কবলা সম্পাদন করেন। 

সূত্র জানায়, ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক শ্রেনির দালাল মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে বা কাউকে ভূয়া মালিক সাজিয়ে অন্যের জমি বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। অথবা নিজেরাই বনে যাচ্ছে জমির মালিক। দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাঁজসে এই ভয়াবহ প্রতারণা হচ্ছে। ফলে জমির প্রকৃত মালিকরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। এরইমধ্যে চলতি বছরের ৩১মার্চ ২৩৮৫ নং একটি দলিল সাবমিট করেন সোহাগ নামে এক প্রতারক। ওই দলিলের লেখক হেদায়েতুল ইসলাম, সনদ নং-৪৭।  দলিলটির দাতা-মাহমুদা আফ্রাদ আর গ্রহিতা হচ্ছেন-মাসুদ আলম ভূইয়া। একইদিন আরো একটি দাতা-কামরুল হাসান ও গ্রহিতা-নাজমা আক্তারের একটি দলিল করে চক্রটি। দলিল নং-২৩৯৬। এই দলিলের লেখক সোহেল রানা, সনদ নং-১৯৩। এর পর ১এপ্রিল ২০১৯ ইং গ্রহিতা-জামাল উদ্দিন ও দাতা-মো. কামাল উদ্দিন গং দলিল নং-২৪১৫ সাবমিট করেন সোহেল। ঐ দলিলের লেখক মহিউদ্দিন বাবু। একইদিন ২৪৭৮ আরেকটি দলিল সাবমিট করা হয়। ঐ দলিলের গ্রহিতা-মেহেদী হাসান এবং দাতা-মাহফুজা হক। দলিলটির লেখক-রফিকুল ইসলাম। এদিন ২৪৬২ এবং ২৪৬৯ নং আরো দুটি দলিল সাবমিট করেন সোহেল। এ দলিলের লেখক মাহি উদ্দিন বাবু। অভিযোগ উঠেছে দাখিলকৃত দলিলগুলোর কোনোটিতে ডেমরার সাবরেজিস্ট্রারের জাল সাক্ষর রয়েছে আবার কোনো কোনোটিতে তাহার সাক্ষরই নেই। উল্লেখিত চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত এধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ কথা বলছে না। তাদের বিচার দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশিরভাগ দলিল লেখক ও ভুক্তভোগিরা।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।