ব্রেকিং নিউজ

ইজতেমার দুই পর্বে ২৪ মুসল্লির মৃত্যু

news-details
জাতীয়

গাজীপুর প্রতিনিধি

টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। তবে ইজতেমার দুই পর্ব মিলে সড়ক দুর্ঘটনা, বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে ২৪ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।  

ইজতেমা ময়দানের কন্ট্রোল রুমে মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. মনজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, গত ০৯ জানুয়ারি মারা যান সিরাজগঞ্জের খোকা মিয়া। পরের দিন রাত ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান চট্টগ্রামের মোহাম্মদ আলী, একই দিন রাজশাহীর চারঘাটের তমিজউদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মারা যান।

১১ জানুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে মারা যান কুমিল্লার বিংলাবাড়ি গ্রামের তমিজউদ্দিন, এদিন ভোর ৪টার দিকে মারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহজাহান। ভোর ৬টার দিকে মারা যান নারায়ণগঞ্জের ইউসুফ মেম্বর, মো. আলী আজগর বয়াতী, চট্টগ্রামের ইয়াকুব আলী, নওগার শহীদুল ইসলাম। এ ছাড়া একই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নেত্রকোনার মো. মাজহারুল ইসলাম।

১২ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে জয়পুরহাটের হাতখোলা গ্রামের আব্দুল মমিন, সাড়ে ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জের ধলিয়া বাজার গ্রামের নূর ইসলাম, কক্সবাজার জেলার করাচিপাড়া গ্রামের ওলি আহমেদ ও শেরপুর জেলার চরশেরপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম মারা গেছেন।

১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাভার্ডভ্যান চাপায় মারা যান নরসিংদীর বিরবাগ মধ্যপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়া। ১৬ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে গাইবান্ধা জেলার টেংরাকান্দি গ্রামের গোলজার হোসেন ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান।

এদিন সুনামগঞ্জের চাঁনপুর গ্রামের আলাউদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। এ ছাড়া মারা যান ঢাকার নলকোগ এলাকার ইলিয়াস মিয়া।

১৮ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা গেছেন রংপুরের ওসমানপুর গ্রামের হুমায়ুন কবীর, রাত ২টার দিকে স্ট্রোক করে মারা যান ঝিনাইদহের কালাহাট গোপালপুর গ্রামের আ ফ ম জহুরুল আলম।

এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাইবান্ধা জেলার কামালের হাট গ্রামের আব্দুস সোবহান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান নোয়াখালীর আজিমনগর গ্রামের মনির উদ্দিন, রাত ১০টার দিকে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান চুয়াডাঙ্গার খাদিমপুর গ্রামের ফজলুল হক।

১৯ জানুয়ারি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান গাইবান্ধা জেলার চাঁদপাড়া দুর্গাদাহ গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. শাহ আলম।

এদিকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা আসছেন দলে দলে। মোনাজাত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ ঢল অব্যাহত থাকবে।

রোববার বেলা ১১টার পর শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করছেন দিল্লীর মাওলানা জমশেদ। রোববার ফজর নামাজের পর বয়ান করেন মাওলানা ইকবাল হাফিজ। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা ওয়াসেকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ইজতেমার প্রথম পর্ব। আর ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জায়গা সংকট হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা তিন দিন করে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০১৮ সালে মুসল্লিদের দুই পক্ষের মারামারি ও হতাহতের ঘটনার পর আলাদাভাবে দুই গ্রুপ ইজতেমার আয়োজন করছে।

১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে এ মহা ধর্মীয় সমাবেশ হয়ে আসছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।