ব্রেকিং নিউজ

ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

news-details
আইন-আদালত

আমাদের প্রতিবেদক : 

বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন না করা, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আদালতের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানোর কারণে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওয়াসার এমডিকে ব্যক্তিগত হাজিরার আবেদনের পর আদালত বলেছেন, কোর্টের কাজ কাউকে সাজা দেওয়া নয়। কোর্টের আদেশ প্রতিপালন হচ্ছে কিনা সেটাই বিবেচনার বিষয়।

আদালত বলেছেন, উনার জবাব ও হলফনামা বিবেচনা করে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে কিনা সেটা তখন সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।  

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওয়াসার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী উম্মে সালমা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম।

জানা যায়, ২০১০ সালে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধের জন্য হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে একটি রিট করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে দেওয়া রায়ে আদালত ছয় মাসের মধ্যে বুড়িগঙ্গার ভেতরে যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসচার্জ লাইনগুলো (শিল্প বর্জ্য নিঃস্বরণ লাইন) আছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ওয়াসার এমডির প্রতি নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি (ই-ফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নেই এবং বর্জ্যগুলো বুড়িগঙ্গায় পড়ে পানি দূষণ করছে সেগুলোর বিদুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছিল।

এইচআরপিবির আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘তখন শিল্পমালিক সমিতি আদালতে এসে স্থগিতাদেশ নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত শুনানি হয়েছিল। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ৩ বছরেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা ফের আবেদন করি। গত বছরের জুলাই মাসে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘তখন আদালত তাদের সময় দিয়েছিল প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। তারা প্রতিবেদন দিলো-ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন বুড়িগঙ্গার ভেতরে নাই। পরে বিআইডব্লিউটিএ প্রতিবেদন দিয়ে বলল ৬৮টি লাইন আছে। এর মধ্যে ওয়াসার আছে ৫৮টি। এরপর গত ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চান এবং আদালতের নির্দেশ পালনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেন।

এরপর ২/৩ বার তারা প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিবেদনে আদালতের নির্দেশ পালনের পদক্ষেপ তারা দেখাতে পারেনি। সিদ্ধেশ্বরী, মোহাম্মদপুর ও কলাবাগানে ওয়াসার নিয়মিত কাজের ছবি দেখিয়েছেন তারা। এসব কারণে আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না এ মর্মে লিখিত বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তার ব্যক্তিগত হাজিরা চেয়েছিলাম। আদালত বলেছে দুই সপ্তাহ পরে যখন জবাব আসবে তখন বিবেচনা করবেন।’


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।