নুসরাত হত্যা : নির্দেশদাতা অধ্যক্ষ সিরাজ, পরিকল্পনায় শাহাদাত

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা করতে জেলখানা থেকে নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা। আর নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেন শাহাদাত হোসেন শামীম। 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নুসরাত হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে নুর উদ্দিন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। জবানবন্দিতে সে জানায়, অপারেশনে চারজন বোরখা পরিহিতের মধ্যে একজন ছেলে আর বাকি তিনজন মেয়ে ছিল। আর ওই একজন ছেলেটাই শামীম। বাকিরা সবাই ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। মিশনে অংশ নেয়াদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি শাহদাত হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি মেয়েগুলোর একজনের দায়িত্ব ছিল কেরোসিন ও বোরকা সরবরাহ করা। আর শম্পা বা চম্পা নামের আরেকটা মেয়ের দায়িত্ব ছিল নুসরাতকে ছাদে পাঠানো। সে পরীক্ষাহলের বাইরে এসে নুসরাতকে জানায় যে নিশাতকে (নুসরাতের বান্ধবী) মারা হচ্ছে ছাদে। সেই শম্পা বা চম্পাও গ্রেপ্তার হয়েছে। 
হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া চারজন এবং নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে আসা চম্পা অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সবার সামনে দিয়েই মাদ্রাসার মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যায়। নুর উদ্দিন ও হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচ জন আগে থেকেই গেটে পাহারা দিচ্ছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর সবাই গা ঢাকা দেয়।
সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার আরো জানায়, এ ঘটনায় জড়িত মোট ১৩। এখন পর্যন্ত ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশেই হত্যাকা-ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে শামীম ও নুর উদ্দিন। তবে পুড়িতে হত্যার প্রস্তাব করে শামীম নিজে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শামীম, এস এম সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, জুবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন এবং আফছার উদ্দিন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 
পিবিআই জানান, গত ৪ এপ্রিল  সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন। দেখা করার পর সিরাজের নির্দেশে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেয়। কীভাবে হত্যা করা হবে পরে নুরউদ্দিন ও শামীমের নেতৃত্বে তার বিশদ পরিকল্পনা করা হয়।
পিআইবি জানায়, দুই কারণে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করে নুসরাত আলেম সমাজকে হেয় করেছে বলে মনে করে তারা। আরেকটি কারণ হলো শামীম দীর্ঘদিন ধরে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। নুসরাত তা বারবারই প্রত্যাখ্যান করছিল। এই ক্ষোভ থেকে শামীম তাকে পুড়িয়ে হত্যার প্রস্তাব দেয়। দুই কারণ মিলিয়ে নুসরাতকে হায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।
সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে ১০ এপ্রিল রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।
এদিকে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই মামলার পর সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।