ব্রেকিং নিউজ

‘ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে আতংকিত হওয়ার কারণ নেই’

news-details
জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আতংকিত হবার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিয়লজি বিভাগের প্রধান ডা. আলী আহসান।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য দেন।

আলী আহসান জানান, আপাতত ওবায়দুল কাদেরকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তার বিশ্রামের প্রয়োজন।

হাসপাতালে কতদিন থাকতে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, শিগগিরই উনি আবার স্বাভাবিক জীবনে চলে যেতে পারবেন। কারণ আমরা ইকো করেছি তার ফলাফল ভাল। গত দুই বছর আগে হার্ট অ্যাটাক ছিল। সেটারও কোনো ঝুঁকি নেই আপাতত। হার্ট ইজ ভেরি গুড। আশা করছি, দুই একদিনের মধ্যে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন।

বিদেশ নেওয়ার প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ উপাচার্য প্রফেসর ড. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারটি তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। তবে তার বর্তমানে অবস্থা স্টেবল আছে (স্থিতিশীল)। বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কিছুক্ষণ আগেও কথা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, অবস্থার উপর তা নির্ভর করবে।’

উনি আসলে ভালই ছিলেন। কিন্তু সিটি নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণেই মূলত তার জ্বর, সর্দিতে ভুগছিলেন বলেও জানান কনক কান্তি বড়ুয়া।

ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন কনক কান্তি বড়ুয়া। পাশাপাশি অন্য রোগীদের যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয় সেজন্য হাসপাতালে অহেতুক ভীড় না করারও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিএসএমএমইউতে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যা‌রিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা জানতে পেরেছি গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শ্বাসকষ্ট ও ব্লিডিং সমস্যা হচ্ছিল। সকালে যখন তিনি ধানম‌ন্ডি ৩ এ আওয়ামী লীগ সভাপ‌তির কার্যাল‌য়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আসেন তখন শ্বাসকষ্ট সমস্যা তীব্র হয়।’

বিপ্লব বড়ুয়া জানান, সকাল দশটা চল্লিশ মিনিটে তিনি বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন। তার ফুসফুসে ইনফেকশন জনিত সমস্যা আছে। ব্লাড প্রেসার আছে। দলের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসেন ।

এর আগে সকালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় হাসপাতালে নেওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরকে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয় তাকে। ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

এর আগে গত বছরের ৩ মার্চে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। হাসপাতালে ভর্তির পর বিএসএমএমইউতে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রাম রিপোর্টে হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে।

এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওবায়দুলকে কাদেরকে বিএসএমএমইউ এর কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে রাখা হয়। পরে ৪ মার্চ বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এরপর ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। সার্জারি করেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি। ডা. ফিলিপ কোহে এই চিকিৎসা বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন।

এরপর দীর্ঘ দুই মাস ১১ দিন পর ১৫ মে দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।