ব্রেকিং নিউজ

সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই বিএনপির পরাজয়

news-details
রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ;

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই নৌকার প্রার্থীরা ব্যাপক ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মতো কোনো রাজনৈতিক শক্তি দেশে নেই। তবে দলের নেতা-কর্মীদের আরো বিনয়ী হতে হবে।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে এগারোটায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির রংপুর বিভাগীয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, আপনারা দেখেছেন ঢাকা সিটি নির্বাচনে আমাদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কারণে বিপুল ভোট পেয়ে আমাদের মেয়র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। আমাদের যে সাংগঠনিক শক্তি সেটি আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখাতে সক্ষম হয়েছি।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে রেখেছিল বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলেছে, প্রতি কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের লোকেরা ছিল। বাংলাদেশের সমস্ত নির্বাচনে কেন্দ্রের বাইরে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকে। এবারও নির্দষ্ট দূরত্বে আইন মেনে আমাদের দলের ক্যাম্প করা হয়েছিল। সেখানে নেতা-কার্মীদের জটলা ছিল। প্রতি কেন্দ্রের বাইরে আমাদের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিল। অন্যদিকে আমাদের মতো করে বিএনপিকে সেভাবে দেখা যায়নি। এটার কারণ হচ্ছে, তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা। আমাদের নেতা-কর্মীদের প্রতি কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে এর কারণ হচ্ছে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমি আরো মনে করি সংগঠনের মধ্যে নেতা-কর্মীদের নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। সমস্ত যায়গায় যে অবক্ষায় সেই অবক্ষয়ের হাত থেকে রাজনীতিকে মুক্ত রাখতে হবে। সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নৈতিক মনোবল এবং তাদের মধ্যে রাজনীতি যে একটি ব্রত সেটি তাদের মধ্যে প্রতিথ করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সাংগঠিনক শক্তির পাশাপাশি শেখ হাসিনার রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার অনন্য দক্ষতার কারণেই আমরা পরপর তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায়। জনগণের সমর্থন ছাড়া আমরা একদিনও রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে চাই না। জনগণ সমর্থন দিলে অবশ্যই আমরা আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবো। মানুষ উন্নয়নের কারণে ভোট দেবে, কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা উদ্যত থাকে তবে জনগণ বিরক্ত হয়। গত ১১ বছরে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সমস্ত বিশ্ব প্রশংসা করছে, পাকিস্তান আক্ষেপ করছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রশংসা করছে, এই যে উন্নয়ন, এই উন্নয়নের বার্তাগুলো যদি আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। বিনয়ের কোন বিকল্প নেই, যারা উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করে তাদের যদি নিভৃত করতে পারি, নেতাকর্মীরা বিণয়ী হলে জনগণ অব্যাহভাবে আমাদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব দেবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।