ব্রেকিং নিউজ

যেভাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

news-details
খেলাধুলা

স্পোর্টস ডেস্ক : 

আর একটা ম্যাচ। ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে দিতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আইসিসির কোনো বৈশ্বিক আসরে ফাইনাল ম্যাচের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এমন কিছু লেখা বা বলার সৌভাগ্য হয়নি কারোরই।
অন্যের ফাইনালে ওঠার গল্প লিখতে লিখতে এবার নিজেদের নিয়ে লেখা। নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আফ্রিকা মহাদেশের মাটিতে দুই এশিয়ার (বাংলাদেশ-ভারত) লড়াই।
ঘরের মাঠে মেহেদী মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাজমুল হাসান শান্তদের নিয়ে গড়া দলটাও যেখানে সেমি-ফাইনালের গণ্ডি পার করে ফাইনালে উঠতে পারেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার অচেনা কন্ডিশনে ফাইনালে উঠে দেখিয়েছে আকবর আলী, মাহমুদুল হাসান, রকিবুল হাসানরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্লাইট ধরার আগে অধিনায়ক আকবর আলী গলা উঁচু করেই বলেছিলেন, আমাদের দলটা ফাইনাল খেলার মতো দল।
‘আমাদের দল সেমি ফাইনাল কেন, ফাইনালেও খেলা সম্ভব। আমরা সাম্প্রতিক অতীতে যেমন খেলেছি এবং আমাদের টিম কম্বিনেশন যেমন দাঁড়িয়েছে, ফাইনালে খেলার মতো টিম আমাদের রয়েছে।’
আকবর আলীর কথা সত্যি হয়েছে শেষ পর্যন্ত। তার কথা সত্যি করার পেছনে রয়েছে গোটা দলের মেধা, শ্রম আর দক্ষতা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে তিন প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড আর পাকিস্তান। ১৮ জানুয়ারি টাইগার যুবারা প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বৃষ্টি বিঘ্নিত ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৯ উইকেটের।
দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটিশ যুবাদেরও ধরাশায়ী করে ৭ উইকেটে। এই ম্যাচে স্পিনার রকিবুল হাসান করে বসেন হ্যাট-ট্রিক। তাতে ৩০ ওভার ৩ বলে অল-আউট হয়ে যায় মাত্র ৮৯ রানে।
ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে মাত্র ১৬ ওভার চার বল। তাতেই ৭ উইকেটের জয় এনে দেন পারভেজ-জয়রা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। এই ম্যাচ ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার হিসেব নিকাশের ম্যাচ।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি পেসারদের সামনে ভেঙে পড়ে টাইগার যুবারা। মাত্র ১০৬ রানেই হারিয়ে বসে ৯ উইকেট। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচ মাঠে না গড়ানোয় নেট রান রেটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার সুবাধে সুপার লিগে (কোয়ার্টার-ফাইনাল) স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে পায় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে টস জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ। ব্যাট করতে নেমে তানজিদ হাসানের ৮০, তৌহিদ হৃদয়ের ৫১ আর শাহাদাৎ হোসেনের অপরাজিত ৭৪ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৬১ রান করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দেয়া লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে খেই হারায় প্রোটিয়া যুবারা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাট-ট্রিক করা রকিবুল এই ম্যাচে একাই ৫ উইকেট নিয়ে ধ্বসিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
৪২ ওভার তিন বলে মাত্র ১৫৭ রানে অল-আউট হয়ে বাংলাদেশের সেমি-ফাইনালের পথ পরিষ্কার করে দেয় স্বাগতিকরাই।

সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট-ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে সেমি-ফাইনালে উঠে আসা কিউই যুবাদের হারাতেও বেগ পেতে হয়নি টাইগার যুবাদের।
ইতিহাস গড়ার ম্যাচে মাহমুদুল হাসান করে বসেন আরেক ইতিহাস। শুধু দেশের হয়ে নন, ভারতীয় ব্যাটসম্যান ছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এবারই প্রথম সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদুল হাসান।
কিউইদের দেয়া ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাহমুদুলের শতকে ভর করে ৬ উইকেটের জয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।