১৮ বছরেও হয়নি রমনার বটমূল হামলার বিচার

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

রমনা বটমূলে বোমা হামলার বিচার শেষ হয়নি ১৮ বছরেও। এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে বিস্ফোরক মামলা। আর হাইকোর্টে থমকে আছে হত্যা মামলা। বিচারে ধীরগতির জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে দায়ী করছে আসামিপক্ষ। তবে তা মানতে নারাজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

২০০১ সালে রমনা বটমূলে চলছিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। হঠাৎ বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড চারপাশ। আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি। নিহত হন ১০ জন। আহত আরো অনেকে।

ঘটনার দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ। এরপর পেরিয়ে গেছে দেড় যুগেরও বেশি সময়। বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে শেষ হয়েছে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ।

গত এক বছরে নেয়া হয়েছে মাত্র একজনের সাক্ষ্য। সবশেষ ১১ এপ্রিলের শুনানিতেও হাজির করা যায়নি কোনো সাক্ষীকে। মামলার ধীরগতির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের অবহেলাকেই দায়ি করছে আসামিপক্ষ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ মামলার সাক্ষ্য আনবে রাষ্ট্রপক্ষ, কিন্তু তারা তা আনতে ব্যর্থ। এছাড়া কিছুদিন পর পর সময় আবেদন করতেন। এর ফলে বিচার কাজ অগ্রসর হচ্ছে না। সাক্ষীরা কেন আসছে না, সেটার কোন ব্যাখ্যাও দিচ্ছে না রাষ্ট্রপক্ষ।

তবে মামলার ধীরগতির জন্য ভিন্ন যুক্তি রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আবুর। তিনি জানান, আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি শুধু রাষ্ট্রপক্ষেরই কাজ না, পুলিশেরও দায়িত্ব। পুলিশ কিন্তু সাক্ষীদের দেয়া ঠিকানাতে গেলেও তাদের পাচ্ছে না। এছাড়া পুলিশ সাক্ষীর ব্যাপারে আদালতে তেমন কোন তথ্যও দিচ্ছে না।

এদিকে, ২০১৪ সালের ২৩শে জুন, হত্যা মামলায় মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। পরে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হলেও একজন বিচারক বিব্রত হওয়ায় থেমে যায় মামলার কার্যক্রম।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই মামলাটির ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু হয়েছিল, কিন্তু একজন বিচারক বিব্রত বোধ করায় তা আউটলিস্টের বাইরে চলে যায়। আবারও যেন এর শুনানি শুরু হয় এজন্য আমরা প্রধান বিচারপতির নজরে বিষয়টি আমরা আনবো।

নৃশংস এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি এখনো পলাতক।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।