ব্রেকিং নিউজ

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন প্রথম আলোর সম্পাদক

news-details
আইন-আদালত

আমাদের প্রতিবেদক : 

আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিন পেলেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে অবহেলাজনিত অভিযোগের মামলায় এ জামিন পেলেন তিনি।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ) সকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন। এ চার সপ্তাহ পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে বলা হয়েছে। নিম্ন আদালতকেও তার জামিনের বিষয়ে বিবেচনা করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

১৬ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) মোহাম্মদপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল আলিম আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারায় ৩০৪ (এ) অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলার অপর আসামিরা হলেন- হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক, নির্বাহী শাহ পরাণ তুষার, কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, ডেকোরেশন ও জেনারেটর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার।

২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর (বুধবার) ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে আবরারের বাবা মামলাটির আবেদন করেন। এর আগে গত ৬ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়।

রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুলের বাবা মজিবুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘১ নভেম্বর (শুক্রবার) ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোরদের মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে নাইমুল আবরার যান। অনুষ্ঠান চলাকালে সাড়ে তিনটার দিকে আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার যে নিরাপত্তা ও সাবধানতার প্রয়োজন ছিল তা নেয়া হয়নি। ঘটনাস্থলের অতি সন্নিকটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল অবস্থিত হলেও আবরারকে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। নাইমুল আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর বিকেল করে ৪ টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবরারের মৃত্যুর সংবাদ কিশোর আলো এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ গোপন করে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়নি। আবরারের পরিবার এক সহপাঠীর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পান। যা একটি পরিকল্পিত, গাফিলতি এবং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।

ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে আবরারের মৃতদেহ দ্রুত তুলে পোস্টমর্টেমের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি থানায় করা অপমৃত্যু মামলাটি একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর মাসিক ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান দেখতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে নাইমুল আবরারের মৃত্যু ঘটে। সে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম (গ) শ্রেণির (দিবা) শিক্ষার্থী ছিল।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।