ব্রেকিং নিউজ

রাজধানীতে ২ সন্তানকে গলা কেটে ‘হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা'

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ানে একটি বাড়িতে এক নারী তার দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ৩৮৯ দক্ষিণ গোড়ানের চতুর্থ তলার একটি ফ্লাটে বাড়ি থেকে আলফি (১১) ও জান্নাতুল (৭) নামে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাদের মা আখতারুন্নেসা পপিকে (৩৫) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

খিলগাঁও থানার (ওসি)  মশিউর রহমান জানান, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে পপি তার দুই শিশু সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস ও আলভীকে গলা কেটে হত্যার পর নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে শিশু দুটির মৃত্যুদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে ও পপিকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ পাহারায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ঘটনা স্থান থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি ও একটি বটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, দুই শিশুকে কেন হত্যা করা হয়েছে ও তাদের মা কি কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন তা জানাযায়নি। হত্যার কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

পপির মা হেলেনা জানান, ১৩ বছর আগে পপির বিয়ে হয়। তার স্বামী মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাজারে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা করেন। বিয়ের পর থেকে পপি গোড়ানে তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতো। পরে সেখানেই বাসা ভাড়া নেয় তার স্বামী। তাদের দুই মেয়ে আলফি ও জান্নাতুল। তারা দু'জনেই ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে পড়তো। আলফি চতুর্থ শ্রেণিতে ও জান্নাতুল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তিনি জানান, পপির স্বামী মোজাম্মেল হোসেন বিপ্লব মুন্সীগঞ্জে থেকে ব্যবসা করেন। মাঝে মাঝে গোড়ানে পরিবারের কাছে আসেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে তিনি এসেছিলেন।

হেলেনা অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে মোজাম্মেল শ্বশুর আবু তালেবকে ফোন দিয়ে দোকানে মাল তোলার জন্য ১০ লাখ টাকা চায়। টাকা না দিলে দুই মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে যাব, আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবেন।’ এরপর সকালে পপির বাবা পপিকে ফোন দিয়ে সাড়া না পেয়ে বাসায় গেলে পপি নিজেই দরজা খুলে দেন। এ সময় পপির শরীরের নিচের অংশ দগ্ধ অবস্থায় লেপ মোড়ানো ছিল। আর পাশের রুমে দুই মেয়ের গলা কাটা ও কিছুটা পুড়ে যাওয়া লাশ পড়ে ছিল।

স্বামীর নির্যাতনের কারণে পপিই তার দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে- দাবি করে তিনি বলেন, যেহেতু স্বামী দুই মেয়েকে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাই সে তার মেয়েদের হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনার জন্য তার স্বামীই দায়ী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মা তার দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।