ব্রেকিং নিউজ

‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো উৎসব সফল হবে না’

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক : 

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বাংলাদেশে কোনো উৎসব সফল হবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাকে কারাগারে আটক রেখে কোনো বর্ষই এখানে সফল হবে না। এটা তো সফলের প্রশ্নই আসে না। এটা একটা প্রহসন। কারণ বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং ১৯৭১ সালেও যিনি স্বাধীনতার জন্যে কারাগারে ছিলেন পাকিস্তান বাহিনীর হাতে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য তিনি এখনো কারাগারে আছেন। তাকে আটক রেখে কোনো বর্ষই এখানে সফল হবে না।

শনিবার সকালে ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিসহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন।

দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বর্ষ’ উপলক্ষে ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে দেশের ইসলামী দলগুলো বিক্ষোভ করছে। এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো আমাদের বক্তব্যে আগে বলেছি, খুব পরিস্কার করে বলেছি যে, বর্তমান বাংলাদেশে যে অবস্থা বিশেষ করে ভারতের এনআরসি-এসএসির পরে এরই মধ্যে যে দাঙ্গা হয়ে গেলো তার যে প্রভাব পড়েছে। সেই প্রভাবে নরেন্দ্র মোদির এখানে আসাটা কতটুকু সমীচীন শোভনীয় এটা তারাই বিচার করবেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিএনপি নির্বাচনে সিরিয়াস নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা অংশ নিচ্ছে। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ তো কত কথাই বলবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া, ম্যান্ডেটবিহীন অবস্থায় শুধু অস্ত্র দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বলে আছে। স্বাভাবিকভাবে তারা এই ধরনের কথা-বার্তা বলবে যাতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেটাতে তারা সক্ষম হয়নি। আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি গণতান্ত্রিক যে রীতি রয়েছে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতার পরিবর্তন, আমরা সেটাতে বিশ্বাস করি বলেই আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা আগেও বলেছি, এই নির্বাচনটা আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার এবং বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা এই নির্বাচনে অত্যন্ত সিরিয়াস।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা প্রত্যেকটি নির্বাচনে সিরিয়াসলি অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই সরকার যারা ব্যাসিকেলি জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, জনগণ তাদেরকে সমর্থন করে না, জোর করে ভয় দেখিয়ে, ভীতি দেখিয়ে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা এই নির্বাচনটাকে তারা তাদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। সেটার প্রতিবাদ করার জন্য, তাকে প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। সুতরাং তাদের যে যুক্তি সেই যুক্তি কোনোদিনই গ্রহণযোগ্য না।

ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম নবীন। আমাদের প্রার্থী একজন সংগ্রামী, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী একজন নেতা এবং ধানমন্ডি বিএনপির সভাপতি। ছাত্র রাজনতি করেছেন, দীর্ঘকাল রাজনীতি করছেন এবং এলাকায় তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় মানুষ। আমি বিশ্বাস করে সে অত্যন্ত মেধাবী ছেলে, তার মেধা দিয়ে সে কনট্রিবিউট করতে পারবে। সে তার এই যোগ্যতা প্রমাণ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।