ব্রেকিং নিউজ

বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিপদে পড়বেন

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

আপনার বউ-বাচ্চা আছে না? তাদের কথা ভাবেন। অন্যের দুর্নীতি খুঁজে লাভ নেই। দেশকে অপরাধমুক্ত করার দায়িত্ব আপনার না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিপদে পড়বেন। অযথা নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না।

দৈনিক বাংলাদেশ টুডে পত্রিকায় জাল করে দরপত্র প্রকাশের তথ্য জানতে চাওয়ায় দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাস্কৃতিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক খানকে হুমকি দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মুশাররাত জেবীন ও সহকারী প্রোগ্রামার সৈয়দ মাহফুজ মাহমুদ ইসিতয়াক আহমেদ। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) শেরেবাংলানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এমদাদুল হক খান। যার নম্বর ৯০১।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ টুডে’ পত্রিকা জাল করে একটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মুশাররাত জেবীন। যার স্মারক নম্বর-৫৬.০৪.০০০০.০০৮.২৩.০০৯.১৯-১৬৮৪, তারিখ- ১৭/১২/২০১৯ ইং।

দরপত্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণে ছিলো- ৩য় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ও জাতীয় সেমিনার আয়োজনের নিমিত্ত ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা (অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ, গেট ও এলইডি ট্যানেল স্থাপন, ম্যাপিং ইন্টারএ্যাক্টিভ ড্যান্স ডেভেলপমেন্ট লাইট ও সাউন্ড শো সহ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক বেষ্টনি, এসআইএস সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় মুদ্রিত সামগ্রী ইত্যাদি সরবরাহ। কিন্তু ওই তারিখের বাংলাদেশ টুডের ই-পেপার ও অফিস কপির কোথাও ওই বিজ্ঞাপনটি পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ওই বিজ্ঞাপনটি বাজারে পাওয়া যাওয়া পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়নি। পত্রিকাটির ভেতরের একটি পেজ জাল করে দরপত্রের বিষয়টি গোপন রাখা হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গত ১০ মার্চ- আমার ই-মেইল এ্যাড্রেস থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মুশাররাত জেবীনের সরকারি ই-মেইলে তথ্য অধিকার আইনে একটি দরপত্রের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আবেদন করি। ই-মেইলটি পেয়েছেন কিনা জানতে তার ব্যবহৃত ০১৭৯১-২৩৮৫০৮ নম্বর মোবাইলে করি। এ সময় তিনি ফোনে আমাকে গালিগালাজ করেন এবং বলেন, ই-মেইলে আবেদন করে কি হবে? কোনো কিছু জানার থাকলে আমার অফিসে আসেন।

পরবর্তীতে আমি গত সোমবার দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের তার কার্যালয়ে যাই। এ সময় তিনি তার কক্ষে সহকারী প্রোগ্রামার সৈয়দ মাহফুজ মাহমুদ ইসিতয়াক আহমেদকে ডেকে আনেন। এরপর তারা দুইজন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নিউজ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন।

মুশাররাত জেবীন বলেন, আপনার বউ-বাচ্চা আছে না? তাদের কথা ভাবেন। অন্যের দুর্নীতি খুঁজে লাভ নেই। দেশকে অপরাধমুক্ত করার দায়িত্ব আপনার না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিপদে পড়বেন। অযথা নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। দেশের প্রতিটি জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। আপনার সাহস থাকলে উচ্চ আদালতের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে কি দুর্নীতি হচ্ছে না। ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করেন না কেনো? তাদের নিয়ে রিপোর্ট না করে আমাদের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে পড়ে আছেন। আপনাকে কে দিয়েছে এই দায়িত্ব। আপনি কি জানেন, এখন আপনাকে গার্ড ডেকে আটকে রাখতে পারি। এক পর্যায়ে তিনি ইসতিয়াক আহমেদকে গার্ড ডাকতেও বলেন।

তখন সহকারী প্রোগ্রামার সৈয়দ মাহফুজ মাহমুদ ইসিতয়াক আহমেদ বলেন, এসব নিয়ে রিপোর্ট করে কোনো লাভ হবে না। উপরোন্ত আপনি বিপদে পড়বেন। শুধু শুধু বিপদ ডেকে এনে লাভ কী? আপনি ও ভালো থাকুন, আমাদেরও ভালো থাকতে দিন।

এসব ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিক এমদাদুল হক খান। তাই নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ডিএমপির শেরেবাংলানগর থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। 


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।