ব্রেকিং নিউজ

সপ্তাহের ব্যবধানে ঊর্ধ্বমুখী মাছ, মুরগি ও সবজির বাজার

news-details
অর্থনীতি

আমাদের প্রতিবেদক :

সপ্তাহের ব্যবধানে ঊর্ধ্বমুখী মাছ, মুরগি ও সবজির বাজার। কেজিতে ১০-৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে মাছের বাজার, কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে সবজির দাম। দাম বেড়েছে মুরগির বাজারেও। কেজিতে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মুরগি দাম।

এছাড়া আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু, মহিষ ও খাসির মাংস, চাল, ডাল, তেল ও মসলা। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের বাজার। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে পেঁয়াজের দাম।

মাছ, মুরগি ও সবজির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, করোনা আতঙ্কে বাজারে মালের সরবরাহ কমেছে এ কারণে দাম বেড়েছে পণ্যের। আর ক্রেতারা বলছেন, করোনা আতঙ্ক নয়, বিভিন্নধরনের সমস্যায় ব্যবসায়ীরা জনগণের পাশে না থেকে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারে মালের সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ানোর কারণ নেই।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি বাজার, ফকিরাপুল কাঁচা বাজার এবং শান্তিনগর কাঁচা বাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

এসব বাজারে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে আকারভেদে চিচিঙ্গা ১০০-১২০ টাকা, সিম ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৪০-৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা, করলা ৮০-১১০ টাকা, উস্তি ১২০ টাকা, বেগুন ৬০-১০০ টাকা, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, বড় কচু ৫০-৬০ টাকা, বিট ৪০-৬০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে শাকের বাজারেও। বাজারে প্রতি আটি (মোড়া) কচু শাক ১০-১২ টাকা, লাল শাক ১২-১৫ টাকা, মূলা ১৫ টাকা, পালং শাক ১৫-২০, লাউ ও কুমড়া শাক ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, জালি ৫০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি-ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, বাঁধা কপি (গ্রিন) ৬০-৮০ টাকা।

আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও মহিষের মাংসের দাম। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৮০ টাকা, মহিশের মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, বকরি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে মুরড়ির বাজারে। এসব বাজারে প্রতিকেজি বয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা, লেয়ার ২২০-২৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি ২৬০-২৮০ টাকা কেজিদরে।
অপরিবর্তিত আছে ডিমের বাজার। লাল ডিম প্রতি ডজন ৯০-৯৫ টাকা, দেশি মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালী ১৪০, হাঁস ১৩০-১৪০, কোয়েল প্রতি ১০০ পিস ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে মাছের বাজারে। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতি এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকা, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০-৭৫০, ছোট ইলিশ আকারভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া প্রতিকেজি কাঁচকি ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি, মলা ৩৫০-৪০০ টাকা, ছোট পুটি (তাজা) ৫০০-৫৫০ টাকা, শিং ৪০০-৬৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০-৭৫০ টাকা, বাগদা ৪৫০-৯৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩৫০- ৫০০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২৫০-৩৫০ টাকা, মৃগেল ২২০-৩৫০ টাকা, পাঙাস ১৩০-১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২০০ টাকা, কৈ ২০০-২২০ টাকা, কাতল ২২০-৩২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দাম কমেছে পেঁয়াজ ও রসুনের। এসব বাজারে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মানভেদে) ৩০-৫০ টাকা কেজিদরে। এছাড়া দাম কমে প্রতিকেজি রসুন দেশি (মানভেদে) ৭০-১০০ টাকা, চায়না ১৩০-১৫০, তিন কোয়া রসুন ১৮০, আদা ১৩০-১৪০ টাকা কেজিদরে।

অন্যদিকে আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল চাল ও মসলার বাজার। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা লিটার, খোলা সাদা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯২ টাকা লিটার। অপরিবর্তিত আছে সরিষার তেল। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।

এসব বাজারে চিনিগুড়া চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ হাজার থেকে ৫ হাজার ২৫০ টাকা, মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরানো) ২৫০০-২৫৫০ টাকা, ২৮ চাল ১৮৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায়।

এসব বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০-৫৫০০ টাকা কেজি দরে, জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০-৩৬০০ টাকা কেজি দরে। জায়ফল বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে।
দর বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে রয়েছে ভিন্নমত। 

বিক্রেতারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের কারণে এখন বাজারে মালের সরবরাহ কমেছে। মাল কম থাকায় দামও বাড়তি রয়েছে। 

পলাশ নামে কারওয়ান বাজারের এক ক্রেতা বলেন, বর্তমানে করোনা আতঙ্ক কাজ করছে সবার মধ্যে। এ আতঙ্ক রয়েছে সবজি বাজারেও এ কারণে মালের সংকট দেখা দিয়েছে।

একই কথা জানান এ বাজারের পাইকারি মাছ বিক্রেতা হালিম। তিনি  বলেন, এখন মালের ঘাটতি রয়েছে দামও বাড়তি। সবাই একটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।