ব্রেকিং নিউজ

খালেদা জিয়ার মুক্তির চিঠি বিএসএমএমইউতে

news-details
রাজনীতি

আমাদের প্রতিবেদক

অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মুক্তি হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তার মুক্তির চিঠি এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পৌছে গেছে। এই চিঠি নিয়ে গেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এই কারা কর্মকর্তা বিএসএমএমইউতে চিঠিটি নিয়ে যান।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য (ভিসি) কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, কারা কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের পরিচালক খালেদা জিয়ার কেবিনের সামনে অবস্থান করছেন। তার মুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক সব কাজ শেষ করেছেন তারা।

খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে বিএসএমএমইউতে অপেক্ষা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে এরই মধ্যে কারা অধিদফতরে পৌঁছে গেছে। এখন কারা অধিদফতরের মুক্তির প্রক্রিয়ার শেষ করার অপেক্ষা।

কারা সূত্র জানায়, সাজা বাতিলের ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখানে স্বরাষ্ট্র সচিবের স্বাক্ষরের পর কারা অধিদফতরে যায়। কারা অধিদফতর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করবে। সেই কাগজ নিয়ে বিএসএমএমইউতে গিয়ে খালেদাকে মুক্তি দেবেন জেল সুপার।

আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা জানান, ফাইলটি কারা অধিদফতরে এসেছে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী জানান, কারা অধিদফতর থেকে আমাকে ফোন দেয়া হয়েছিল। আমি কাগজটি নিতে অধিদফতরে যাচ্ছি।

মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না- এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানার পর থেকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী ও খালেদা জিয়ার পরিবার তার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল তিনি মুক্তি পাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশের নথি বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজ দুপুর ১২টার দিকে ওই নথি আমাদের কাছে এসেছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন তৈরি করে কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠাবে। এর পরই ওই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন, কিন্তু জামিন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।