ব্রেকিং নিউজ

প্রত্যেক সাংবাদিককে অন্তত ২০ হাজার করে টাকা দিন, প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক :

সাংবাদিকদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রত্যেক সাংবাদিককে অন্তত ২০ হাজার করে টাকা দিন, তাহলে তারা শক্তি পাবে, সত্য বলার জন্য বেঁচে থাকবে। আপনি নিজেও সত্য শোনার অভ্যাস করুন। তাহলে আপনি জয়যুক্ত হবেন। দেশ জয়যুক্ত হবে। আমরা আরও গভীরভাবে আপনাকে ভালোবাসব।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এশিয়ার জার্নালিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, নিপীড়ন, চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে ও বেতন ভাতা পরিশোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদরা আপনাকে প্রবৃত্ত করে রাখে নাই। আপনাকে প্রবৃত্ত করে রেখেছে তিন শ্রেণির গোয়েন্দা বাহিনী। তারা হলো আমাদের নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী, ভারতের র, আর মোসাদ। তাদের চারপাশে আছে আমলারা। আমলারা হচ্ছে সেই সকল প্রাণী, আপনি যা শুনতে চান তারা তাই শোনায়। আপনি ডিসিদের সাথে যে ডিজিটাল কনফারেন্স করেন তাতে সেই কর্মকর্তারা প্রথম দুই মিনিট আপনার প্রশংসা করে পরে তারা কি করেছে সেটা বলে।

তিনি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতির মধ্যে যারা আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে চায় তারা হলেন সাংবাদিক। গোয়েন্দারা তথ্য দেয়, কিন্তু তা মনগড়া। বঙ্গবন্ধুর সাথে গোয়েন্দারা কি কি আচরণ করেছে সেগুলো থেকে আপনার শিক্ষা নেওয়া উচিত। সাংবাদিকরা কার্টুন করে কাদের, যাদেরকে ভালোবাসে তাদের। সুতরাং এই ব্যাঙ্গকে ভয় পান কেন? আমি বিশ্বাস করি আপনি দেশের ভালো চান। আর সেজন্য সাংবাদিকদের কথা বলতে দেন। কথা শোনার অভ্যাস করুন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, তবে আপনি কয়েকটি ভালো কাজের চেষ্টা করেছেন। তার মধ্যে একটি প্রণোদনা, তবে এই প্রণোদনা সত্যিকার অর্থে যারা বড় লোক তারাই পাচ্ছে। কৃষকের ধান কিনে নেবেন বলছেন। কিছুটা কিনে নেবেন। এই কিছুটা কেনায় দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হয়। অনুগ্রহ করে প্রতিটি কৃষকের কাছ থেকেই আপনি ধান কিনে নেবেন এবং ২৬ টাকার জায়গায় দুই টাকা বেশি দিয়ে কিনবেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুইকোটি পরিবারের মধ্যে এক কোটি একেবারে নিরন্ন আর এক কোটি অর্ধাহারে থাকে, তাদের সবাইকে মাসিক রেশন দেন। সাপ্তাহিক নয়, কারণ সাপ্তাহিক দিলে তাদের বারবার রাস্তায় আসতে হবে তাই মাসিক দিতে হবে। মনে রাখবেন বাঘ যখন বনে খাবার না পায় তখন লোকালয়ে আসে।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের জন্য ২০০ প্যাকেট ত্রাণের সাহায্য ঘোষণা দেন।

ডিজিটার নিরাপত্তা আইন বাতিলেরর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, সরকার করোনা মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। স্বাস্থ্যবিধির কি হবে তা নিয়ে সরকারের মাথা ব্যাথা নেই। এজন্য আস্তে আস্তে লকডাউন তুলে নিচ্ছে। জনগণের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এসব তথ্য যেনো সাংবাদিকরা প্রচার না করতে পারে এজন্য সরকার তাদের নানাভাবে নির্যাতন করচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। কাজলকে যেভাবে হাতকড়া পড়িয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। আমি অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। এসময় তিনি প্রত্যেক সাংবাদিককে ২৫ হাজার টাকা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, অনির্বাচিত সরকার গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে তারা মরিয়া। করোনাকালে বহু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। ৯ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আমি অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ,  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এড. আবেদ রেজা, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব শফিউল আলম দোলন, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, ডিইউজের দফতর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী, ডিইউজের সিনিয়র সদস্য তালুকদার রুমী প্রমুখ।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।