প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন খালেদা জিয়া

news-details
আইন-আদালত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করা তিনটি আসনে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।  পৃথক তিনটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষে রবিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক তিনটি আবেদন করা হয়। 

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও হাইকোর্ট বেগম জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। 

গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। রিট খারিজ হওয়ার পর তখনই বেগম জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তারা এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। 

রিট খারিজের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘হাইকোর্টের একক বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা তিনটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুসারে দণ্ডিত ব্যক্তি বেগম জিয়া এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭—এই তিন আসন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন বেগম জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেন। 

এ বিষয়ে গেল নভেম্বরে হাইকোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে আছেন তিনি। 

খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁর তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ও পরে হাইকোটে রিট করেও ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আপিল বিভাগে আবেদন করলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। 

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানির পর সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৩টি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত দেন। শুনানিতে প্রার্থিতা বহালের পক্ষে মত দেন শুধুমাত্র মাহবুব তালুকদার। এর পর ইসির এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First