রাজধানীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।


আমজাদ হোসেন, বয়স ৪৫ বছর। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আইসিডিডিআরবি, মহাখালী হাসপাতালে।

আমজাদ হোসেন জানান, তিনি রাজধানীর একটি মেলামাইনের কারখানায় চাকরি করেন। গত বুধবার প্রচণ্ড গরমে সন্ধ্যায় তিনি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে এক গ্লাস শরবত পান করেছিলেন। ওইদিন রাতেই তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে ভর্তি হন এই বিশেষায়িত হাসপাতালে।

বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্বস্থিকর গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ।

প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ ফুটপাতের নানা ধরনের শরবত বা বরফ মিশ্রিত পানীয় পান করছেন। এছাড়া গরমের কারণে মানুষের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরছে। তাতে দ্রুতই পানি শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এতে করে আবাল বৃদ্ধ বনিতা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ফুটপাতে বিক্রি হওয়া নানা পদের ফাস্টফুডে মেশানো কেমিকেল স্বাভাবিক আবহাওয়ায় মানুষের শরীরে তাৎক্ষণিক সমস্যা তৈরি না করলেও বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে তা ডায়রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আর আক্রান্ত এসব রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে। গত চারদিনে (মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার) শুধুমাত্র আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার রোগী।

ওই হাসপাতালের তথ্যমতে, গেল দুই সপ্তাহ যেখানে দিনে দুই থেকে আড়াই’শ রোগী ভর্তি হতো, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে প্রায় হাজারের কাছাকাছি।

আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের এক পরিসংখ্যনে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার ৯২৩ জন, বুধবার ৮৬৪ জন, বৃহস্পতিবার ৮৫৩ জন ও শুক্রবার ৮৬৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। যেখানে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৬ শতাংশ।

জানতে চাইলে আইসিডিডিআরবি চিকিৎসক হৈমন্তি সাহা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রোগীর সংখ্যা এতো বেশি যে, আমরা তাদের সেবা দিতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছি। তবে গরম যেভাবে বাড়ছে তাতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

আইসিডিডিআরবির মিরপুর-১৪ নম্বর শাখার তত্ত্বাবধয়াক ডাক্তার রোকসানা বলেন, অনেক সময় মানুষ ওয়াসার পানি না ফুটিয়ে পান করার কারণেও জীবনু ছড়িয়ে পড়ে।

আইসিডিডিআরবি হাসপাতালটির প্রধান কর্তাব্যক্তি অধ্যাপক ডাক্তার আজহারুল ইসলাম খান বলেন, গেল বছর আমাদের এখানে সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা ছিল ৮০০ নিচে। এবার গরমের শুরুতেই তা ৯০০ ছাড়িয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমানে রোগীর চাপ সামলাতে আমরা আমাদের হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে আলাদা প্যান্ডেল করে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়েছি। এখন পুরাতন রোগীদের ছেড়ে দিয়ে নতুনদের ভর্তি নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহানগরীতে নিরাপদ পানির প্রচণ্ড অভাব, এজন্য প্রত্যেকের উচিত পানি ফুটিয়ে পান করা। দূষিত পানি এসব রোগের প্রধান বাহক হতে পারে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।