ব্রেকিং নিউজ

হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

news-details
বিনোদন

আমাদের প্রতিবেদক :

নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিক ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মাতুলালয় শেখ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। বাবা ফয়জুর রহমান ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মাঝে হুমায়ূন ছিলেন সবার বড়। তার ছোট ভাই অধ্যাপক জাফর ইকবাল একজন বিজ্ঞানী ও লেখক। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব একজন প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখক।

১৯৬৫ সালে তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) মেধাতালিকায় পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। ১৯৭২ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর পাস করে প্রথমে প্রভাষক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে যোগ দেন।

তার লেখালেখি শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালে। ওই সময়ে তার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হওয়ার পর লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ আলোচিত হয়ে উঠেন। এর পর একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকে শঙ্খ নীল কারাগার, রজনী, গৌরীপুর জংশন, অয়োময়, দূরে কোথাও, ফেরা, কোথাও কেউ নেই, অচিনপুর, আমার আছে জল, এই সব দিনরাত্রিসহ অসংখ্য গল্প ও উপন্যাস। লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে স্বেচ্ছায় তিনি অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে দেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন এক জাদুকরী লেখক। তার লেখা গল্প, উপন্যাস সাধারণ পাঠক অতি সহজে হৃদয়ঙ্গম করে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতেন। এমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও এক নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করে গেছেন। সবচেয়ে বড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি রসায়নের একজন ছাত্র হয়েও সাহিত্যঙ্গনে প্রবেশ করে অতি দক্ষতা ও সার্থকতার সাথে সায়েন্স ফিকশন, লজিক ও এন্ট্রি লজিক নিয়ে লেখায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে হুমায়ূন আহমেদকে বাংলা সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎও বলা হয়ে থাকে। অমর সৃষ্টি জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী ও হিমুর স্রষ্টাও তিনি। তার বেশ কিছু গ্রন্থ বিশ্বের নানান ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে। সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), বাসসাস পুরস্কার (১৯৮৮), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ (১৯৯৩ ও ৯৪) অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

১৯৭৩ সালে হুমায়ূন আহমেদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর নাতনী গুলতেকিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম পক্ষে এক ছেলে ও তিন কন্যা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষে দুই ছেলে রয়েছে।

আজ পরিবার ও ভক্তরা দিনটিকে স্মরণ করবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সীমিত আকারে দোয়ার আয়োজন থাকছে হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান নেত্রকোনা এবং লেখকের সবচেয়ে প্রিয় স্থান গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও থাকছে নানা অনুষ্ঠানমালা।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।