ব্রেকিং নিউজ

করোনায় দেশবাসীকে সুখবর দিলেন নাসিমা সুলতানা

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নিয়ে দেশবাসীকে সুখবর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। দেশে করোনার প্রকোপ কমে আসছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনার সর্বোচ্চ পর্যায় (পিক) এখন কমতির দিকে। করোনার কেস কমে আসায় মানুষের আগ্রহও কমেছে টেস্টের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, ‘নমুনা কমেছে। তবে আজ কয়েক দিনের চেয়ে বেশি। কেস এখন কমতির দিকে। যাদের দরকার, তারাই টেস্ট করছে। কেস কমার কারণে মানুষের আগ্রহও কম। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেস কম এবং নাই বললেই চলে। কাজেই কেস ওইভাবে যে পিকে আছে আমরা তা বলতে পারি না। আইইডিসিআরের সার্ভেতেও আসছে যে কেস এখন পিকে নেই। এখন কমতির দিকে।’

এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে  ২ হাজার ৭৫২ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হলেন ২ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৯৬৫ জনে।

সারাদেশের নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৮৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৭টি। নতুন পরীক্ষা করা নমুনায় ২ হাজার ৭৫২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৭ জনের। ফলে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন ২ হাজার ৯৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮০১ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ২৫ হাজার ৬৮৩ জন।

পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ের্ল্ডোমিটারসের তথ্যমতে, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৪৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১ কোটি ৫১ হাজার ৬৪৪ জন।

অপরদিকে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৭৬ জনের।

আক্রান্ত বিবেচনায় সারাবিশ্বের মৃত্যুর হার ৯৪ শতাংশ এবং মৃত্যু হার ৬ শতাংশ।

সুস্থ এবং মৃত্যু ছাড়া বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৫ জন। এরমধ্যে ৯৯ শতাংশের শারীরিক অবস্থা মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। আর ১ শতাংশের অবস্থা সংকটাপন্ন।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৪৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৯ জনের। দ্বিতীয় অবস্থা থাকা ব্রাজিলে শনাক্ত ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৯০১ জন আর মারা গেছেন ৮৭ হাজার ৫২ জন। এদিকে ভারতে দ্রুত বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। ১৪ লাখ ৩৬ হাজার ১৯ জন রোগী নিয়ে আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এপর্যন্ত মারা গেছে ৩২ হাজার ৮১২ জন।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।