সংবিধান ও ভোটাধিকার রক্ষা সেনাবাহিনীর কর্তব্য : ড. কামাল

news-details
রাজনীতি

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

সংবিধান ও ভোটাধিকার রক্ষা করা সেনাবাহিনীর কর্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পেশাজীবীদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সামরিক বাহিনীর উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনী আজকে (গতকাল) নেমেছেন। সেই বিজয় দিবস যখন চিন্তা করি, আমাদের সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা শহীদদের উত্তরসূরি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি। আপনারা অন্তত দেশে আমাদের যে ভোটাধিকার-এটাকে রক্ষা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো দায়িত্ব নেই।’

ড. কামাল আরও বলেন, ‘সংবিধানকে রক্ষা করা, ভোটাধিকারকে রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। এর পরিপন্থী আদেশ যারা দেয় তারা হলো স্বাধীনতার শত্রু, সংবিধানের চোখে অপরাধী। তাদের কথা শোনাও অপরাধ।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদদের আমানত রক্ষার আহ্বান রেখে ড. কামাল বলেন, ‘এ দেশ জনগণের মালিকানায় থাকবে। কোনো স্বৈরাচারের মালিকানায় এক মুহূর্তের জন্য আমরা যেতে দেব না। আর পাঁচ দিন আছে। এই বড় গলায় কথা আমাদের আর যেন না শুনতে হয়। আমাদেরকে যারা মনে করে যে আমরা প্রজা। সরকারের একজন বলেই ফেলল। আমি নামও নিতে চাই না। যাকে এককালে আমি ভালো জানতাম। সে বলেছে, প্রজা। স্বাধীন দেশের লোকগুলো প্রজা নয়, তারা নাগরিক। প্রজা হয় রাজতন্ত্র যেখানে থাকে। সরকারে যারা এখন মনে করছেন যে, একটা রাজতন্ত্র চলছে। তারা আমাদেরকে প্রজা মনে করছেন। তাদের বলি, একটু মাথা ঠিক করুন। আমরা প্রজা নই, আমরা নাগরিক, স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘যারা বলে দেশ বিভক্ত। আমি বলি আরে মিয়া তোমাদের মাথা উন্মুক্ত। দেখ আমাদের ঐক্য দেখ। আমরা একাত্তরে দেখেছি, বাহাত্তরে দেখেছি, ৭৫-এর পরে যখন আমরা ভেবেছিলাম সব বুঝি হারিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু আক্রান্ত হলেন, তাজউদ্দিন ভাই আক্রান্ত হলেন। কিন্তু কে বাঁচিয়েছে? ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা বাঁচিয়েছি। আমার পাশে যে বসে আছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।’

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক আখতার হোসেন, চিকিৎসক এ কে এম আজিজুল হক, আবদুল কুদ্দুস, সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, চলচ্চিত্রকার প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলামের সহধর্মিনী জ্যোস্না কাজী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First