বছরে ৪২ হাজার একর কৃষিজমি-জলাশয় ভরাট হচ্ছে: বিআইপি

news-details
জাতীয়

সারা দেশে প্রতিবছর ৪২ হাজার একর কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ প্ল্যানার্সের (বিআইপি)। যদিও নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে মহানগর এলাকায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকায় জলাশয় থাকা উচিত। বিআইপি জানিয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৫,৭৫৭ একর জলভূমি ঢাকা থেকে হারিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে টিআইবির মেঘমালা সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ড্যাপ লঙ্ঘন করে ঢাকা ও এর চারপাশের জলাশয় ভরাটের চিত্র’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণা প্রতিবেদনেটি উপস্থাপন করেন বিআইপি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহম্মাদ খান।

বিআইপি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সাভার থানায় অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ১৭৪০৩ একর তার মধ্যে ভরাট কৃত অঞ্চল ২৮১৩ একর। জলধারণ অঞ্চল ৩০ একর এর মধ্যে ভরাটকৃত অঞ্চল ২২ একর। জলাশয় ৩২০৪ একর এরমধ্যে ভরাটকৃত  অঞ্চল ২৩০ একর। সব মিলিয়ে সভার থানার অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে ২০৬৩৮ একরের মধ্যে ৩০৬৫ একর ভরাটকৃত অঞ্চল।’

গাজীপুর থানার অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৩৮৪২ একরের এর মধ্যে ভরাটকৃত অঞ্চল ২৩৬০ একর। রূপগঞ্জ থানার অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে জলাশয় ১৬৫৪২ একরের মধ্যে ভরাটকৃত অঞ্চল ৬৭৮৬ একর। এছাড়া কেরানীগঞ্জ থানার অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন এলাকার জলাশয় ২৬৪৭৪ একরের মধ্যে ৫৬৮৯ একর ভরাটকৃত অঞ্চল।’

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটান এলাকায় জলাশয় অঞ্চলের ৯৫৫৬ একরের মধ্যে ভরাটকৃত অঞ্চল ৩৪৮৩ একর। পাশাপাশি ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০১০ এর মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের জলাশয় ভরাটের পরিমাণ মোট ১০০৯৩৭ একরের মধ্যে ২২৫১৬ একর ভরাটকৃত অঞ্চল।

বিআইপি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহম্মাদ খান তার গবেষণা প্রতিবেদনে জলাশয় সংরক্ষণের জন্য সুপারিশ তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ‘ভূমি ব্যবসায়ীদের অবৈধ কার্যকলাপ রোধে প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শহরের বর্জ্য মেশানো পানি যেন সরাসরি জলাধারে প্রবেশ করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা।’

‘পাশাপাশি জলাশয়গুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ করা সম্ভব। নিরাপদ পানির উৎস বৃদ্ধিকরণে জলাশয় সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।এক্ষেত্রে ভূপৃষ্ঠস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির প্যাটার্ন ও ব্যাপ্তি অনুসরণের জন্য উপযুক্ত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), বেলা, নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ,নিজেরা করি, এএলআরডি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া অপর আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিইজিআইএস গবেষণা সহযোগী ফিরোজ আহমেদ কনক।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বুয়েট নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড.ইশরাত ইসলাম, এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করি সমন্বয়কারী খুশী কবীর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।