নেপাল ট্র্যাজেডি: ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ইউএস-বাংলার

news-details
জাতীয়

।। ।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

নেপাল ট্র্যাজেডির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের অন্যতম বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ারলাইন্সটির ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের একটি প্লেন। ওই দুর্ঘটনায় প্লেনের ৫১ আরোহী নিহত ও ২০ জন আহত হন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার এক বছর মঙ্গলবার।

এদিকে দুর্ঘটনার এক বছর পেরুলেও নেপালে ফের ফ্লাইট চালু করেনি ‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ শ্লোগানে ডানা মেলা ইউএস-বাংলা। তবে বহরে নিয়মিত উড়োজাহাজ সংযোজন ঘটিয়ে উড়াল দিচ্ছে নতুন নতুন গন্তব্যে।

অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়লেও থমকে যায়নি বেসরকারি এ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম। দুর্ঘটনার পর সাময়িক সময়ের জন্য এয়ারলাইন্সটির যাত্রী সংখ্যা কমে গিয়েছিলো। তবে যাত্রী আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় এয়ারলাইন্সটি। বাড়ানো হয় সেবার মান ও নিরাপত্তা। ফলে ‘ইউএস-বাংলা’য় ফের বেড়েছে যাত্রী, ফিরেছে আস্থা।

সংস্থাটি বলছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সেফটি র‌্যাংক শতভাগ। বাংলাদেশের একমাত্র এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা, যার নিরাপত্তা সূচক সবার শীর্ষে।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠিক যে মুহূর্তে বাংলাদেশের এভিয়েশনখাত এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখনই নেপাল দুর্ঘটনা অনেকটা থমকে দেয় এভিয়েশনখাতের এগিয়ে যাওয়ার সাফল্যকে। যদিও মাত্র চার মাসের ব্যবধানে থাই লায়ন এয়ার ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্তে বহু মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের এভিয়েশন নয়, পুরো বিশ্বের এভিয়েশনখাত সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। 

তথ্যমতে, এয়ারলাইন্সটির যাত্রা শুরুর ৪ বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ১২ মার্চ দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে নেপালের ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটটি। নেপাল পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫ মিনিট) বোম্বাডিয়ার কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় শেষ পর্যন্ত নিহত হন ৫১ আরোহী। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান ২০ আরোহী। ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বর্তমান শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফকার এফ ২৭-৬০০ বিধস্ত হয়ে ৪৯ আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনার পর এটিই বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

এয়ারলাইন্সটির কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার পর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। নতুন অত্যাধুনিক এয়ারলাইন্স ও আন্তর্জাতিক রুট বাড়িয়েছে সংস্থাটি। গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৫৭ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা
করেছে ইউএস-বাংলা। ফ্লাইটের অনটাইম পারফরমেন্স শতকরা ৯৮.৭। অভ্যন্তরীণ সব রুট ছাড়াও বর্তমানে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, গুয়াংজু, দোহা, মাসকাট ও কলকাতা রুটে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম বাংলাদেশি কোনো উড়োজাহাজ সংস্থা হিসেবে চীনে একমাত্র ইউএস-বাংলা-ই ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী ৩১ মার্চ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গন্তব্য ভারতের চেন্নাইয়ে সপ্তাহে তিনদিন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা। এছাড়া শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও মালদ্বীপের মালে-তে ফ্লাইট চালু করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছে। ওই দুই দেশের সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি পেলেই ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হবে।

রুট বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এয়ারক্রাফট সংগ্রহেও মনোযোগ দিয়েছে তারা। বিশ্বের সর্বাধুনিক এয়ারক্রাফট বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স পরিচালনা করবে একমাত্র ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালের বিমান পরিবহন সেবায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া দু’টি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের এয়ারক্রাফট ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হতে চলেছে। 

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক, আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য উড়োজাহাজ সংযুক্ত করাই ছিলো আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের পরিচয় বহনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা ধারণ করেই ইউএস-বাংলার পথ চলা। যাত্রার শুরু থেকেই যাত্রী, ট্রাভেল এজেন্টস, কর্পোরেট বডি ও শুভানুধ্যায়ী ইউএস-বাংলার উপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতে সবার সহযোগিতায় ইউএস-বাংলা সামনের দিকে এগিয়ে দেশের সুনাম বজায় রাখবে। 

তিনি জানান, ইউএস-বাংলার বহরে এমন কোনো এয়ারক্রাফট ব্যবহৃত হয় না, যে এয়ারক্রাফট বর্তমানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে নেই।

২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ শ্লোগান নিয়ে ২টি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বর্তমানে ৪টি বোয়িং ও ৩টি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ সহ মোট ৭টি এয়ারক্রাফট রয়েছে ইউএস-বাংলার বহরে। সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও কর্মীদের দক্ষতার কারণে দেশি এয়ারলাইন্সের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে ইউএস-বাংলা।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First