কোটি টাকা নিয়ে উধাও : তিন বছর পর ধরা প্রতারক

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

দ্বিগুণ লাভের আশায় তিন কাঠা জমি বিক্রির কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ এর রোকেয়া সরণির শাখায় দুটি হিসাব নম্বরে জমা রেখেছিলেন মিরপুরের শাহনাজ শম্মী (৪৬)। জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িত দালাল এহছানুল আরও বেশি লাভের প্রলোভন দেখান।

কথিত মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় ৩ মাস মেয়াদি আমানতের জন্য সাড়ে ১৪ টাকা হার সুদ দেবার প্রলোভন দেখান। এহছানুলের কথায় সরল বিশ্বাসে এক কোটি টাকা মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। ছেলেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর বন্দোবস্ত হবার পর ব্যাংকে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, শূন্য অবস্থায় অ্যাকাউন্ট।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী শাহনাজ শম্মী বাদী হয়ে এহছানুল হক ওরফে শিমুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং -১২। গত ২৪ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানাধীন তালতলা এলাকা থেকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো কর্তৃক আটকের পর আদালতের নির্দেশে দুই দিনের রিমাণ্ডে রয়েছেন এহছানুল হক।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শাহনাজ শম্মীর পল্লবীস্থ রূপনগরে ৩ কাঠা জমি বিক্রয়ের সময় সাহায্য করেন ও জমির বিক্রির এক কোটি টাকা রোকেয়া সরণির ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় দুটি হিসাব নম্বরে জমা দেন অভিযুক্ত এহসানুল হক শিমু।

একটি ৬ বছর মেয়াদি ডবল বেনিফিটের মেয়াদি হিসাব নম্বরে ৫০ লাখ টাকা ও অপরটি ৩ মাস অন্তর মুনাফা প্রদেয় ৫ বছর মেয়াদি হিসাব নম্বরে ৫০ লাখ টাকা।

তবে এহসানুল বাদী শাহনাজকে জানায়, ব্যাংক ৩ মাস মেয়াদি হিসাবের সুদের হার কমিয়ে ১৩.৫০ টাকার স্থলে ১১.৫০ টাকা করতে চায়। তবে একই ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় তার স্ত্রীর বড় ভাই আছেন। ওই শাখায় ৩ মাস মেয়াদি আমানতের জন্য সাড়ে ১৪ টাকা হারে সুদ দেবে।

এহছানুলের কথায় রাজি হন শাহনাজ। এক কোটি টাকা স্থানান্তরে সরল বিশ্বাসে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ রোকেয়া সরণি শাখায় দুটি হিসাবের ইন্সট্রুমেন্টের বিপরীতে স্বাক্ষর করে দেন। এবং একইভাবে কথিত মতিঝিল ন্যাশনাল ব্যাংক লি. কর্পোরেট শাখায় দুটি হিসাব খোলার জন্য দুই ইন্সট্রুমেন্ট প্রদান করেন।

বাদীর স্বাক্ষরিত সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের একটা ব্যাংক চেক গ্রহণ করে এবং বলে হিসাব ট্রান্সফার এর জন্য এবং কর্পোরেট শাখার হিসাব খোলার জন্য সামান্য কিছু টাকা প্রয়োজন হবে।

বাদী সরল বিশ্বাসে ব্যাংক চেকটি প্রদান করলে এহসানুল হক শিমু, ব্যাংক কর্মচারী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে বাদীর ৬ বৎসর মেয়াদী হিসাবের বিপরীতে তার সই স্বাক্ষর ও লেখা জাল করে বাদীকে গ্যারান্টার দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করে গড়াই অটো মোবাইলস এর নামে এসওডি ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাত এবং চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এহছানুল তার প্রতিষ্ঠানের নামে চলতি হিসাবে ৫১ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেন। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংক কর্তৃক বাদীকে কোনো কিছুই অবগত করেনি।

অস্ট্রেলীয় অ্যাম্বাসি বাদীর ছেলের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার বিষয় নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখতে চাইলে বিপত্তি সৃষ্টি হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোঁজ নিতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট শুন্য দেখতে পায়। রোকেয়া সরণি শাখার ম্যানেজারের দেয়া সলভেন্সি সার্টিফিকেট জাল হিসেবে ধরা পড়ে। বাধ্য হয়ে অস্ট্রেলিয় অ্যাম্বাসী শাহনাজের ছেলেকে ৩ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়া স্থগিত করে দেয়।

বাদী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রতারক এহসানুল ব্যাংক হিসাবের এক কোটি এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা আত্মসাত করেছে। শুধু তাই নয়, আরো জানতে পারেন যে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ মতিঝিল কর্পোরেট শাখার কোনো অস্তিত্ব নেই।

শাহনাজ মামলা করলে প্রথমে মামলা তদন্ত করে শেরে বাংলা থানা পুলিশ। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্ত করা হয়। পরে সিআইডি পুলিশ কর্তৃক দীর্ঘ প্রায় চার বছর তদন্ত করে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। জড়িত অভিযুক্ত প্রধান আসামি এহছানুল হক গ্রেফতার না হওয়ায় অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে না-রাজী দেন বাদী শাহনাজ। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে আসছিল পিবিআই, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) এর এসআই মো. আলমগীর হোসেন ভূইয়া।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মূল প্রতারক এহছানুল হকের বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে জাল কাগজপত্র সৃজন করা ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎকারী অন্যান্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।