ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসছে পেঁয়াজের বড় বড় চালান

news-details
অর্থনীতি

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলে দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকা বড় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ তৎপর হয়েছেন। দেরিতে হলেও এখন একের পর এক জাহাজ আসছে তাদের পেঁয়াজ নিয়ে। আজ শনিবার এক দিনেই সিটি গ্রুপের ১০০ কনটেইনার পেঁয়াজ আসছে। এ চালানে দুই হাজার ৫৫৬ টন পেঁয়াজ রয়েছে। একসঙ্গে পেঁয়াজের এত বড় চালান এর আগে আর আসেনি। বন্দরের জেটিতে অন্য জাহাজ থেকেও খালাস হচ্ছে পেঁয়াজ। এখন বন্দর সীমায় পেঁয়াজভর্তি জাহাজ আছে চারটি। এসব জাহাজে বিভিন্ন আমদানিকারকের আরও এক হাজার ৪০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে।

সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দুই লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিলেও এলসি খুলেছেন মাত্র ৮০ হাজার টনের। সেই পেঁয়াজও আসছিল না। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১২ হাজার টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে এতদিনে।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিদাতা ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক ড. আজাহার আলী বলেন, অনুমতিপত্র নেওয়ার তুলনায় আমদানির পরিমাণ এতদিন অনেক কম থাকলেও এখন তা বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আসতে পারে বলে ধারণা তাদের।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর শাখার উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর গত বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজের অনুমতিপত্র ইস্যু করেছেন তারা। এটা শুধু তাদের শাখার হিসাব। এখন বড় ব্যবসায়ীদের বড় চালান আসতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার কুদরত-ই-খুদা মিল্লাত জানান, আগামী ১৫ দিনে বেশ কিছু জাহাজ আসবে পেঁয়াজের কনটেইনার নিয়ে। এসব পেঁয়াজ টিসিবিকে হস্তান্তর করবে সিটি গ্রুপ। জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, বিমানপথে ৩০ টন পেঁয়াজ এসেছে তাদের। আজ শনিবার সমুদ্রপথে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ আসার কথা। এটি সমুদ্রপথে তাদের প্রথম বড় চালান। সমুদ্রপথে দূরত্ব বেশি হওয়ায় পেঁয়াজ আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি জানান, টিসিবির কাছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করবেন তারা। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পেঁয়াজ টিসিবিকে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি মাসে পেঁয়াজের আরও চালান আসবে চট্টগ্রাম বন্দরে। এস আলম গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের চালান জাহাজীকরণ করা হচ্ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি আসবে এস আলমের বড় চালান। আর মেঘনা গ্রুপের পেঁয়াজ আসবে এক সপ্তাহের মধ্যে।

দুই মাস আগে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর তুরস্ক, মিসর, চীন, উজবেকিস্তানসহ অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয় এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বিএসএম গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সোনালী ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে এককভাবে সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার টন পেঁয়াজ আনার এলসি খোলে। কিন্তু তাদের পেঁয়াজ সমুদ্রপথে এখনও

পৌঁছেনি চট্টগ্রাম বন্দরে। এস আলম কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম চালানে মিসর থেকে ২ হাজার টন এবং তুরস্ক থেকে খোলা জাহাজে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আসবে তাদের। তবে বিমানপথে এখন পর্যন্ত তারা ৩৭২ টন পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবিকে দিয়েছে।

বিএসএম গ্রুপ সবার পরে এলসি খুললেও তাদের পেঁয়াজ এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে দেশের বাজারে। বিএসএম গ্রুপ তিন জাহাজে ১ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। এগুলো বন্দরে খালাস হয়ে বাজারে চলে এসেছে। মেঘনা গ্রুপের পেঁয়াজ এসেছে ২ হাজার ১০০ টন। এর আগে মেঘনা গ্রুপ ২০ টন পেঁয়াজ বিমানপথে এনে টিসিবির কাছে বিক্রি করেছে।

পেঁয়াজ আমদানির সুবিধার্থে এলসি মার্জিন ও সুদের হার কমানো হয়েছে। পেঁয়াজবোঝাই জাহাজ ও ট্রলারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্য খালাসের সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

চট্টগ্রামে থানার উঠানে বিক্রি হবে পেঁয়াজ :পেঁয়াজ কেনায় নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে পাঁচটি থানার উঠানে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। আজ শনিবার সকাল থেকে নগরের কোতোয়ালি, খুলশী, পাহাড়তলী, চান্দগাঁও ও ইপিজেড থানার উঠানে পেঁয়াজ বিক্রি হবে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হবে ৪৫ টাকায়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ এক কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। প্রতিটি থানায় এক টন করে প্রতিদিন পাঁচ টন পেঁয়াজ বিক্রি হবে। এ কার্যক্রম এক সপ্তাহ চলবে।

নগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, পুলিশের নারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে থানা চত্বরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।