ব্রেকিং নিউজ

অধিকাংশ পরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক :

লকডাউন শিখিল হওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চললেও এখন তা মানা হচ্ছে না।

প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও বাসে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুজনের আসনে একজন বসানোর নির্দেশনা থাকলেও দুজনই বসছেন। দাঁড়ানো অবস্থায়ও লোক নিচ্ছে বাসচালক-সহকারীরা। শুধু তাই নয়, বাসের প্রধান ফটকে বাদুড় ঝোলা হয়েও যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। এখন অবস্থা এমন যেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে যাবতীয় ভাবনা উধাও।

রাজধানীর প্রায় সড়ক যানজটে ফিরেছে আগেই। ঠাসা ভিড় নিয়ে শহরে ছুটছে বাস। দোকান-বাজার সর্বত্র জমজমাট সমাগম। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। সহকারীরা আগের মতো জোর করে যাত্রী তুলছেন। এ সময় কোনো পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের ছিল হুড়োহুড়ি অবস্থা। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এভাবে চলতে পারে না। ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নিয়েও চালক-সহকারীরা অতিরিক্ত যাত্রী তুলছেন। এতে আবারো করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি কোনো বাসে মানা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।

পরিবহন নেতারা বলছেন, এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও বাসের চালক-সহকারীরা কথা শুনছেন না। পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের জোর পদক্ষেপ চাচ্ছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত কারো হাঁচি বা কাশিতে থাকা জীবাণু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ লেগেছে এমন কোনো বস্তু স্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির কয়েক ফুটের মধ্যে থাকা অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই গণপরিবহনে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলেছে, এখন গণপরিবহন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ গণপরিবহনে মানুষের সমাগম বেশি। মানুষের সমাগম থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে।

তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করেন। তাদের পক্ষে গণপরিবহনে যাতায়াত বন্ধ করা কঠিন। তাই এখনো তাদের গণপরিবহনের ওপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মানুষ জানে, কিন্তু কেউ মানছে, কেউ মানছে না। দেশে এখন করোনা সংক্রমণের যে হার, সেটি কমাতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ করোনার সংক্রমণ রোধে কিছু কিছু কাজ হচ্ছে, এই কাজগুলোকে ব্যাপকতা দিতে হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি টার্মিনালে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও লিফলেট বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। আর এই সেক্টরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যেতে পারি না। আমরা অনেক বলার পরও বাসের চালকরা কথা শুনছেন না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। দরকার হলে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।

এদিকে করোনা সংক্রমণ না কমলেও সেপ্টেম্বর থেকে সব আসন পূর্ণ করে বাস চালানোর পাশাপাশি আগের ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সংগঠনের মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, বুধবার রাতে সংগঠনের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের ভাড়ায় ফিরে আসার নানা দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যাত্রীরা চাচ্ছেন না অতিরিক্ত ভাড়া দিতে আর সরকারের পক্ষ থেকেও আমরা এ বিষয়ে পজিটিভ ইঙ্গিত পেয়েছি। সবকিছু বিবেচনা করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আসন পূর্ণ করে বাস চালানোর পাশাপাশি আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে সবাই সম্মত হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে কম যাত্রী তুলতে হবে বলে মালিকদের ক্ষতি পোষাতে গত ৩১ মে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা এবং নগর পরিবহনের বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। এরপর ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত ১ জুন থেকে শর্তসাপেক্ষে বাস চলাচল শুরু হয়। ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে একজন যাত্রীকে বাস ও মিনিবাসের পাশাপাশি দুটি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অন্য আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছিল।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজার রাখা এবং কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না বলে শর্ত ছিল।

প্রথমদিকে এসব শর্ত মানা হলেও ধীরে ধীরে শিথিলতা শুরু হয়। বর্তমানে অধিকাংশ গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে এক বৈঠকে আসন পূর্ণ করে বাস চালানোর প্রস্তাব দেয় মালিক সমিতি। এ প্রস্তাব মানা হলে বাড়তি ভাড়া বাদ দিয়ে আগের ভাড়ায় ফেরার আশ্বাসও দেন তারা।

ওই বৈঠকে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বলেছিলেন, প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আসবে।

আসন পূর্ণ করে বাস চালানো হলে স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মানা হবে জানতে চাইলে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, বাসে সিটের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হবে না অর্থাৎ দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা হবে না। এছাড়া মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হবে এবং যতদূর সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, কোভিড ১৯-এর বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কর্মকান্ড পরিচালনার যে নির্দেশনা দিয়েছিল এবং জনসাধারণের চলাচলে যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, তা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে।

 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।