ব্রেকিং নিউজ

খুলনার বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে

news-details
দেশজুড়ে

হেমোন্তিকা হিমু, খুলনা

পাঁচই সেপ্টেম্বর, খুলনায় একটি চমৎকার রৌদ্র উজ্জ্বল দিন। শরতের প্রথম ভাগই মাছের বাজার গুলোতে বেশ ভিড়। কারন সব্জির আকাশ ছোঁয়া দাম। সাম্প্রতিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে দেশ জুড়ে কাঁচামরিচসহ সকল শাকসবজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে বসেছে। এই সময় মাছ, মাংস আর ডিমের দিকে ঝুকছে ক্রেতারা।

মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যোগানও বেড়েছে খুলনার পাইকারি ও খুচরা বাজারে। গতকাল খুলনার সবচেয়ে বড় পাইকারি মাছের বাজার রুপসা ফিশারি ঘাটে ঘুরে দেখা যায় অন্য সময়ের থেকে মাছের সরবরাহ এখন অনেক বেশি। এখানে সুর্য ওঠার আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় মাছ ব্যাপারিদের কর্মতৎপরতা।

শুক্রবার খুব সকালে গিয়ে রুপসা ফিশারি ঘাটে দেখা যায় মাছের ক্রেতা বিক্রেতাদের হাক ডাক। শ্রমিকরা ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছেন। কেউ আবার সেগুলোতে বরফ দিচ্ছেন। পাশেই পাইকারি দরে সেগুলোর দরদাম ঠিক করে কিনে নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। 

এখানে খুলনার আশপাশের অঞ্চল মোংলা, রুপসা, দিঘলিয়া, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, সেনহাটি ইত্যাদি থেকে মাছ আসে পিকআপ, ভ্যান, ট্রাক ও ট্রলারে করে। পরে এখান থেকেই খুচরা বিক্রেতারা শহরের বিভিন্ন মাছের বাজারে সেটা সাপ্লাই দিয়ে থাকেন

খুলনার খুচরা মাছের বাজারগুলোতে বেশ ভিড়। কারনটা হল সব্জির আকাশ ছোঁয়া দাম।  এ অঞ্চলের পুষ্টির প্রধান উপাদানই মাছ এটা বলাই যায়। পুকুর এবং ঘেরে চাষ করা হয় গলদা চিংড়ি, বাগদা ও হরিনা চিংড়ি ,কৈ, তেলাপিয়া, কাকড়া, আফ্রিকান মাগুর, পাঙ্গাস, শিং, মাগুর, রুই, কাতলা, সরপুঁটি, সিলভার কার্প, মৃগেল, বোয়াল, পাবদা আরও অনেক ধরনের দেশি বিদেশি মাছ। শোল, টাকি, টেংরা, খয়রা, রয়না সহ কুচো মাছ খাল ও বিল থেকে আহরণ করেন এ অঞ্চলের জেলেরা। এছাড়াও সুন্দরবনের উপকূল ও সমুদ্র উপকূল থেকে পাওয়া সামুদ্রিক মাছের আমদানিও কম নয়।

তবে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, লক্ষীপুরের মত খুলনাও এখন চলছে ইলিশের মৌসুম। আজ সকালে নগরীর দৌলতপুর মাছের বাজারে ছিল ইলিশের জমজমাট বেচাকেনা। এই সপ্তাহে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে জেলেদের জালে। দামও তুলনামূলক বেশ কম। বিশেষ করে পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার জেলের ধরা ইলিশ মাছ আসে খুলনার বিভিন্ন বাজারে।  কথা হয় মাছ বিক্রেতা শরিফ উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, ইলিসের দাম এখন কম হওয়ায় অন্যান্য দেশি মাছ কেউ কিনছেই না! সবাই সস্তা পেয়ে বেশি করে ইলিশ কিনে ফ্রিজে জমিয়ে রাখছেন।  তিনি আরও জানান, ইলিশ মাছের দাম নির্ধারণ হয় এর আকার অনুযায়ী। মাছ যত বড় হবে কেজিপ্রতি দামও তত বেশি । এদিকে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ যেমন, কোরাল, বাইলা, রুপচাদা, চিংড়ি, ফোপা, লইট্টা ইত্যাদি মাছও এখন বেশ সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে খুলনার বিভিন্ন বাজারে।

খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় লবনাক্ততার জন্য অধিকাংশ জমিতে ফসল ভাল হয়না। সেইসব জমিতে লবন পানির মাছ এবং অর্ধ লবন পানির মাছ ভাল হয়। যে কারনে এখানে গড়ে উঠেছে ছোট বড় রপ্তানিমুখী মৎস শিল্প। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর এই মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য কিছুদিন রপ্তানি বন্ধ থাকায় বেশ কিছু মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু আছে ২৩ টি প্রতিষ্ঠান।
জেলে এবং মাছ ব্যাবসায়ীরা স্বপ্ন, আবারও খুলনার মৎসশিল্প ফিরে পাবে তার পুরোনো জৌলুস।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।