ব্রেকিং নিউজ

এমসি কলেজে ধর্ষণ: ৫ দিনের রিমান্ডে রবিউল

news-details
দেশজুড়ে

সিলেট প্রতিনিধি : 

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামি রবিউল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট মহানগর হা‌কিম ২য় আদাল‌তের বিচারক সাইফুর রহমান তার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

মহানগর পু‌লি‌শের সহকারী ক‌মিশনার (প্র‌সি‌কিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বিষয়টি নি‌শ্চিত ক‌রেছেন।

তিনি জানান, এর আগে পুলিশ আসা‌মি র‌বিউল হাসানকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে শুনানি শেষে আদালত ৫ দি‌নের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার রাতে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের মাঝামাঝি এলাকা ইনাতগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়ে। 

রবিউল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদিপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

দিরাই উপজেলার জগদল ইউপি চেয়ারম্যান শিবলী বেগ জানান, রোববার বিকেলে বড় নগদিপুর গ্রামে রবিউলের বাদিতে যায় র‌্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ দল। এসময় বাড়িতে রবিউলের বাবা দেলোয়ার হোসেন ছিলেন না। র‌্যাব ও পুলিশ বাড়িতে থাকা মা সিতারা বেগম ও বোন লিপি বেগমকে রবিউলকে এনে দেবার জন্য চাপ দেন। এক পর্যায়ে মা ও বোনকে আটক করতে চান তারা। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় চান। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিউল আটক হয়।

স্থানীয়রা জানায়, রবিউলের বাবা দেলোয়ার হোসেন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত নয়। রবিউলও স্থানীয় কোন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কখনোই কাজ করেননি। কিন্তু সিলেটে তিনি ছাত্রলীগের হয়ে অস্ত্রবাজি করতেন। গ্রাম্য কোন্দলেও তিনি তার আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ হয়ে প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া দিতেন। রোববার বিকালেও তিনি বাড়ির পাশের আখিল শাহ্ বাজারের কাছে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। ওখান থেকে সন্ধ্যায় কুশিয়ারা নদী পাড় হয়ে ঢাকায় পালানোর সময় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ এলাকা থেকে রাত ৯ টায় আটক হন তিনি।


পরে রাত সাড়ে ৯ টায় রবিউল ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী।

রাতে তাকে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার সময় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম বলেন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশনা, গোয়েন্দা ও পুলিশ বিভাগের সমন্বিত অভিযানে রবিউলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। রাত নয়টা থেকে ১০টার মধ্যে শনাক্ত করা স্থান থেকে রবিউল গ্রেফতার হন। গ্রেফতার এড়াতে তিনি পালিয়েছিলেন উল্টো পথে, অর্থাৎ ঢাকার দিকে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের পাশের কাজীগঞ্জ বাজারের নিজ আগনা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকালে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন যুবক জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তারা।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।