ব্রেকিং নিউজ

 প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব জলাধার ভুতিয়ার পদ্মবিল

news-details
দেশজুড়ে

হেমন্তিকা হিমু

খুলনার গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অনুকূল আবাহাওয়ায় তেরখাদার ভুতিয়ার বিলে ভিড় জমেছে ভ্রমণ পিপাসুদের। জমেছে ভ্রমণ পিপাসুদের। 

খুলনা জেলার সর্ব উত্তরের উপজেলা তেরখাদা।  এখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর আবাদি জমি নিয়ে ভুতিয়ার বিল বিস্তৃত। ২০০৩ সাল থেকে জলাবদ্ধতার কারনে অধিকাংশ জমি চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। গুইথের বিল নামে খ্যাত আর একটা শাখা বিলে অনেক আগে থেকেই পদ্ম ফুল ফুটে আসছিল। ২০০৬-৭ সালের দিকে গুইথের বিলের পদ্মবীজ ভুতিয়ার বিলে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতি সিজনে প্রায় ৪০- ৫০ হেক্টর জমিতে হাজার হাজার পদ্ম ফোটা শুরু হয়। ফসলি জমি পদ্মভূমি হওয়ায় এসব এলাকায় চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। তবে এই বিলে কৈ, শিং, মাগুর, শোল, গজার, রয়না, পুটি, বাইন, টাকি ইত্যাদি দেশিয় মাছ প্রচুর পাওয়া যায়।

তেরখাদা থেকে ভুতিয়ার বিল কাছাকাছি হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় এখানেই বেশি দেখা যায়। তবে স্হানীয়দের ভাষ্যমতে গুইথের বিলের গভীরতা বেশি এবং ফুলের বাহারও দেখবার মত। বর্ষার পর পরই গাছগুলো বেড়ে যায়। শরতের মাঝামাঝিতেই পুর্নমাত্রায় পদ্ম ফোটা শুরু হয়। তবে দুর্গাপূজার পর পর বিল কিছুটা ফাকা ফাকা হয়ে যায়। কারণ এলাকার পূজা উপলক্ষে পদ্মের চাহিদা থাকে প্রচুর যার অধিকাংশ এখান থেকেই সংগ্রহ করা হয়। যদিও স্হানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই এলাকার সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, এখানে কোন শিল্প, কল কারখানা নেই। স্হানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি, মৎস, ও ব্যবসা। ভুতিয়ার বিল নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

যাতায়াত : ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন এবং বিমানে করে খুলনায় যাওয়া যায়। (খুলনায় বিমান বন্দর না থাকায় বিমানযাত্রীদের যশোরে নেমে তারপর খুলনায় যেতে হয়।) খুলনা সিটি থেকে যেতে হয় প্রথমে জেলখানা ঘাট। ঘাট পার হলেই সেনের বাজার। এখান থেকে তেরখাদা বাজার ১৮ কিলোমিটার।  বাস, লেগুনায় গেলে ৪০ এবং  মোটর বাইকে গেলে লাগবে ১৫০ টাকা ভাড়া। তেরখাদা বাজার থেকে ভ্যানে দশ টাকা ভাড়া, আদমপুর গ্রামের রাস্তার দুইপাশে বিল। বদবদিয়া নামের ছোট্ট একটি ব্রিজের কাছেই নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। ঘন্টা প্রতি ১৫০-২০০ টাকা পড়বে। নৌকা অনেক ছোট হওয়ায় দু তিনজনের বেশি চড়া যায়না।

বিলের যত গভীরে যাওয়া যায় ততো বেশি ফুলের ঘনত্ব চোখে পড়ে। উল্লেখ্য, ফুলের ফুটন্ত রুপ দেখার জন্য ভোরের দিকে যেতে হয়। কারণ বেলা বাড়ার সাথে সাথে পদ্মেরা বুজতে শুরু করে।

থাকার ব্যবস্হা : খুলনায় থাকার জন্য কিছু সুন্দর হোটেল রয়েছে। হোটেল সিটি ইন, ক্যাসল সালাম, রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল, জ্যালিকো ইত্যাদি বেশ প্রশিদ্ধ।

খুলনায় সকল খাবারই বেশ সুস্বাদু এবং সহজলভ্য। চুই ঝালের বিফ এবং মাটন ভুনা বিখ্যাত। সেইসাথে তেরখাদা বাজারের রশগোল্লার ও অনেক সুনাম রয়েছে। পূর্ণ ফোটা পদ্মফুলের গোলাপী সমুদ্র নিচে, আর উপরে নিল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা এই দুইয়ে মিলে জায়গাটিকে অপরুপ সৌন্দর্য দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় খাত। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা আছে। পর্যটন কে কিভাবে সমৃদ্ধ করা যায় এ বিষয়ে ভবিষ্যতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এলাকার মানুষের আশা, একটু খানি সরকারি উদ্যোগ আর সহযোগিতা পেলে ভুতিয়ার পদ্মবিল হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম নান্দনিক একটি পর্যটন কেন্দ্র।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।