ব্রেকিং নিউজ

হাতিরঝিলে উদ্ধার লাশটি চট্টগ্রামের মেহেদীর

news-details
ক্রাইম নিউজ

আমাদের প্রতিবেদক :

রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ছাত্র আজিজুল ইসলাম মেহেদীর। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। 

সোমবার ভোরে হাতিরঝিলের মেরুল-বাড্ডা অংশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। ২৪ বছর বয়সী মেহেদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গত শনিবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন।

পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রকে শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর হাত-পা বেঁধে মশারি ও পলিথিন পেঁচিয়ে লাশটি হাতিরঝিলে ফেলে রাখা হয়। তবে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

মেহেদীর স্বজনদের ভাষ্য- ঢাকায় ইন্টারভিউ দেওয়া ছাড়াও মেহেদী বিভিন্নজনের পাসপোর্ট প্রসেসিংয়ের কাজ করতেন। এ জন্য তিনি মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসে বনশ্রী এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় থাকতেন। তাদের ধারণা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বা বিদেশ যাওয়ার কোনো ঝামেলায় মেহেদীকে খুন করা হতে পারে। পুলিশ তার বনশ্রীর বন্ধু ও ওই মেসের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজ আল ফারুক জানিয়েছেন, তারা লাশ উদ্ধারের পর থেকেই হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। লাশের পরিচয় পাওয়ায় এখন খুনে জড়িতরাও দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আসবে।

মেহেদীর স্বজনরা জানিয়েছেন, গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন মেহেদী। পরে বনশ্রীতে তার বন্ধুর বাসায় ওঠেন। রোববার ভোরে ওই বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা ওইদিন সকাল থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। তারা ঢাকায় বিভিন্ন স্বজনের বাসায় খোঁজ নিয়েও সন্ধান পাননি। সোমবার হাতিরঝিল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণের লাশ উদ্ধারের খবরে মর্গে গিয়ে তারা মেহেদীর লাশ শনাক্ত করেন।

মেহেদীর চাচাতো ভাই আশরাফুজ্জামান বলেন, ঢাকায় এসে মেহেদী তাকে বলেছিল চাকরির একটা ইন্টারভিউ দিতে এসেছে। এ ছাড়া তার কানাডা যাওয়ার ভিসা প্রসেসিংয়েরও কিছু কাজ রয়েছে। গত বছর সে জাতিসংঘের একটি সংস্থার আমন্ত্রণে কানাডা গিয়েছিল। এবারও যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কারা, কী কারণে তাকে খুন করল, তারা বুঝতে পারছেন না।

খালাতো ভাই মো. শাকিল জানান, মেহেদী লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিচিতদের পাসপোর্টের কাজ করে দিত। ভিসা প্রসেসিংয়েও সহায়তা করত। এসব কাজ নিয়ে হয়তো কোনো দালাল চক্রের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।মেহেদী চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।