ব্রেকিং নিউজ

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করবেন না: মহাপরিচালক

news-details
জাতীয়

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফার্মেসি মালিকদের উদ্দেশ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করবেন না। ফার্মেসিতে সেবা প্রদানে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী রাখতে হবে।

আজ শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল ইন হোটেলে ‘বাংলাদেশ মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে নিরাপদ ও সঠিকভাবে সেবা প্রদানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করে তিনি বলেন, ফার্মেসিতে সেবা প্রদানে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষকর্মী রাখতে হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি মডেল ফার্মেসি ও উপজেলায় মডেল মেডিসিন শপ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্টবিহীন কোনো ফার্মেসি থাকবে না। মৌলভীবাজার জেলার ফার্মেসি মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ইনভয়েস ছাড়া কেনাকাটা করবেন না। কোনোভাবেই আপনারা রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করবেন না এবং পুরো ডোজ ছাড়া দিবেন না। একটা কথা মনে রাখবেন, ফিজিসিয়ান স্যাম্পল বিক্রির জন্য নয়। আর মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধের পরিবর্তে যদি কোন কোম্পানি ফিজিসিয়ান স্যাম্পল দেয় সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা বেটার হেলথ ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আপনাদের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছি। আশা করছি সবাই উপকৃত হবেন। তিনি মৌলভীবাজারে ৫৯টি ফার্মেসিকে মডেল মেডিসিন শপ হিসেবে এক্রিডিটেশন সনদ প্রদান করেন।

ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সোসাইটি ও ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস ফর হেলথ এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিসিডিএস মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পরিচালক এমদাদুল হক মজনুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন তৌহিদ আহমেদ; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন; মৌলভীবাজার জেলার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সালমা সিদ্দিকা; বিসিডিএস মৌলভীবাজার শাখা সেক্রেটারি সৈয়দ এ রউফ মানিক ও বিসিডিএস শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক।

মডেল মেডিসিন শপ মূলত বাংলাদেশের সর্বত্র সঠিক ওষুধসেবা নিশ্চিত করার জন্যে মডেল ফার্মেসি থেকে কিছুটা শিথিল শর্ত নিয়ে তৈরি। মডেল মেডিসিন শপের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ন্যূনতম ১২০ বর্গফুট। গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টের অপ্রতুলতার কারণে গ্রেড বি (ডিপ্লোমা) ফার্মাসিস্ট বা ন্যূনতম গ্রেড সি ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের কিছু স্বল্পমূল্যের প্রস্তুতি রাখতে হবে; যেমন, সিলিং ফ্যান ও একজস্ট ফ্যান। ওষুধ বিক্রির সঙ্গে রোগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।

উল্লেখ্য, মডেল ফার্মেসি হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো মডেল ফার্মেসিতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকবেন, যার দায়িত্বে থাকবে পুরো ফার্মেসিটি। ফার্মেসির আয়তন হবে ন্যূনতম ৩০০ বর্গফুট এবং থাকবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ওষুধ বিক্রয়ের সঙ্গে রোগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।