ব্রেকিং নিউজ

জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাইডেন

news-details
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের সুবাস পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। সময় যত গড়াচ্ছে তার জয় ততটাই নিশ্চিত হচ্ছে। সর্বশেষ তার জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ নিয়ে হাজির হয়েছে রণক্ষেত্র রাজ্য পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়া।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ দুটি রাজ্যেই পিছিয়ে ছিলেন বাইডেন। তবে গতকাল শুক্রবার দুটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এর মধ্যেই কোনো কোনো গণমাধ্যমে পেনসিলভানিয়ায় বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য জর্জিয়ার ভোট আবার পুনগর্ণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে নেভাদায় ট্রাম্পকে আরও পেছনে ফেলেছেন বাইডেন।

ভোটের ফল প্রকাশের শুরু থেকেই অব্যাহতভাবে পপুলার ও ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে এগিয়ে থাকা বাইডেন নেভাদায়ও এগিয়ে আছেন। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ২টা পর্যন্ত বাইডেন ২৬৪ এবং ট্রাম্প ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন। বাইডেন এখন নেভাদা অথবা পেনসিলভানিয়ার যে কোনো একটি রাজ্যে জয় পেলেই জয়ী হয়ে যাবেন। তবে নেভাদা, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়ায় জয় পেলে তার ঝুড়িতে যোগ হবে আরও ৪২ ভোট। ফলে তিনি অন্তত ৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছেন বলে দৃঢ়ভাবে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও গতকাল শুক্রবার থেকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তার নিরাপত্তায় ছুটে গেছেন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। বাইডেন বর্তমানে তার শৈশবের শহর ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি ও আশপাশের এলাকা 'নো ফ্লাইং জোন' ঘোষণা করেছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

বাইডেন এখন পর্যন্ত নিজেকে বিজয়ী দাবি করেননি। স্থানীয় সময় শুক্রবারই তার বিজয় ভাষণ দেওয়ার কথা। ইতোমধ্যে বাইডেনের সহযোগীরা বিজয় দাবি করেছেন। প্রায়োরিটিজ ইউএসএ সুপারপ্যাকের চেয়ারম্যান গাই সিসিল বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ স্পষ্টভাবেই কথা বলেছেন। সারাদেশের ভোটাররা তাদের কণ্ঠ

শুনিয়েছেন এবং জো বাইডেনকে বেছে নিয়েছেন আমাদের উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে।' ইতোমধ্যে বাইডেনশিবির বিজয়োৎসব শুরু করেছে। প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ইতোমধ্যেই বাইডেনকে 'প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট' বা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলে মন্তব্য করেছেন। ডেমোক্র্যাট শিবির বলেছে, ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করে ক্ষমতা না ছাড়লে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি পেতে হয়। বাইডেন ২৬৪টি ইলেক্টোরাল ভোট জিতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে মাত্র ৬ ভোট দূরত্বে আছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত জিতেছেন ২১৪ ইলেক্টোরাল ভোট। চূড়ান্ত জয় পেতে হলে তার চাই আরও ৫৬ ভোট। এটা পেতে তার আরও পাঁচটি রাজ্যেই জয় দরকার। তিনি এগিয়ে আছেন দুটিতে।

দুই শিবিরের বাগ্‌যুদ্ধ :তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ এই নির্বাচনের ফল এখনও ঘোষণা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়েই মানুষ রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় আছে। চূড়ান্ত ফল কখন ঘোষণা করা হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বাইডেন জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। ভোট গণনা বন্ধের জন্য ট্রাম্পের মামলার পাল্টায় বেশ কিছু টুইট করে প্রতিটি ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন বাইডেন। সমর্থকদের তিনি শান্ত থেকে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন। বাইডেন বলেছেন, 'কেউ গণতন্ত্রকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। এখন নয়, কখনোই নয়।'

বাইডেন জয়ের অতি কাছে পৌঁছে গেলেও ট্রাম্প কিন্তু এখনও হাল ছাড়েননি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে আবারও কোনো প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, 'আপনারা যদি বৈধ ভোট গোনেন, আমি তো সহজেই জিতে যাই।' ট্রাম্পের মূল আপত্তি পোস্টাল ব্যালট নিয়ে। সেসব ব্যালট গোনা এখনও শেষ হয়নি এবং এর একটি বড় অংশ ডেমোক্র্যাট ভোট বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিপাবলিকান প্রার্থী বলছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তিনি এগিয়ে ছিলেন। পরে 'রহস্যজনকভাবে' অনেক নতুন ভোট গণনা শুরু হয়। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও অনেক জায়গায় ডাকযোগে ভোট পাঠানো হয়েছে এবং বেআইনিভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প, যদিও কোনো প্রমাণ তিনি দেখাননি। ট্রাম্পকে হতাশ দেখাচ্চ্ছিল। বুধবার সকালের পর থেকে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নও গ্রহণ করেননি ট্রাম্প।

এদিকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চার রাজ্যে ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে আদালতে মামলা করেছিল ট্রাম্পের প্রচার শিবির। তবে পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া ও মিশিগান রাজ্যের আদালত তা খারিজ করে দেন। তবে জর্জিয়ায় ব্যবধান খুব সামান্য হওয়ায় সেখানকার কর্তৃপক্ষ ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভোট নিয়ে ট্রাম্পের লাগামহীন ভিত্তিহীন কথাবার্তায় তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারাই প্রেসিডেন্টকে তুলাধোনা করতে শুরু করেছেন। একাধিক রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন এবং জনগণের মতামতকে খাটো করে দেখছেন। তবে রিপাবলিকান নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে। ট্রাম্পের বড় ছেলে ডন জুনিয়র বলেছেন, রিপাবলিকান দল তার বাবাকে 'দুর্বল' সমর্থন দিয়েছে।

ট্রাম্প 'অবৈধ' ভোট গোনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটে অনিয়মের কোনো প্রমাণ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মিশন 'দ্য অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপের (ওএসসিই) এক মুখপাত্র বলেন, অনিয়মের কোনো প্রমাণ নেই।

পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমিও বলেছেন একই কথা। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসিডেন্টের ভাষণটি দেখছিলাম এবং সেটা সহ্য করা ছিল খুব কঠিন। ব্যাপকহারে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির যে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট করছেন তার সত্যি কোনো ভিত্তি নেই। নির্বাচনে বড়োসড়ো কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। দেখুন, প্রতিটি নির্বাচনেই ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ঘটে। কিন্তু এসব খুবই ছোট ঘটনা এবং এ ধরনের ব্যালটের সংখ্যাও খুব কম।

গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পেনসিলভানিয়ায় বাইডেনকে এগিয়ে যেতে দেখেও 'নির্বাচন এখনও শেষ হয়নি' বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের আইনজীবী ম্যাট মরগ্যান। তিনি অভিযোগ করেন, জর্জিয়ায় ব্যালট 'ঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়নি' এবং পেনসিলভানিয়ায় বিচারকের নির্দেশ থাকার পরও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভোট গণনা প্রক্রিয়া 'ঠিকমতো দেখতে দেওয়া হয়নি'। জর্জিয়ায় বাইডেনই জয় পাচ্ছেন বলে কয়েকটি নিউজ নেটওয়ার্কের পূর্বাভাসের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেন মরগ্যান।

চূড়ান্ত ফল কখন আসবে :প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর তিন দিন পার হলেও চূড়ান্ত ফল কখন আসবে তা পরিস্কার হয়নি। ভোট গণনা এখনও চলছে, মামলা চলছে আর পুরো যুক্তরাষ্ট্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে অস্থির হয়ে আছে। মাত্র পাঁচটি রাজ্যের ফলাফল জানা বাকি। গণনা চলা এই রণক্ষেত্র রাজ্যগুলোতেই আটকে আছে নির্বাচনের ফল।

ক্লান্তিহীন অপেক্ষা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের জন্য। সবার নজর এখন গণনা শেষ না হওয়া পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, অ্যারিজোনা ও নেভাদার দিকে। এসব রাজ্যের কখন কোথায় হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে তার কিছু ইংগিত কর্মকর্তারা দিয়েছেন।

ডাকে আসা বহু ভাট এখনও গণনা বাকি। এসব ভোটের অধিকাংশই বাইডেনের পক্ষে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকার ভোট গণনায় এই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে এগিয়ে গেছেন।

পেনসিলভানিয়ায় গতকাল এগিয়ে গেছেন বাইডেন। ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে বাইডেন ৯ হাজার ৮৫৩ ভোটে এগিয়ে যান। ২০ ইলেক্টোরাল ভোটের এ রাজ্যে ডাকে আসা দেড় লাখ ভোট গণনা এখনও বাকি। এর বড় অংশই বাইডেন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবারের মধ্যে ভোট গণনা হয়ে যাবে বলে নির্বাচনী কর্মকর্তারা আশা করছেন।

জর্জিয়ায় গণনা প্রায় শেষের পথে। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তাতে বাইডেন এক হাজার ৫৬৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। ১৬ ইলেক্টোরাল ভোটের এ রাজ্যে ৫০ হাজার ভোট গণনা বাকি আছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) দিকে ভোট গণনা শেষ হতে পারে। তবে তা হয়নি।

নর্থ ক্যারোলাইনায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্প ৭৬ হাজার ৭০১ ভোটে এগিয়ে আছেন। ১৫ ইলেক্টোরাল ভোটের এ রাজ্যে সাড়ে তিন লাখ ভোট এখনও গণনা হয়নি। তাই চূড়ান্ত ফল পেতে আরও দেরি হতে পারে। এ রাজ্যেও বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ বাকি ভোটের বেশিরভাগ পাবেন বাইডেন।

নেভাদায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাইডেন ২০ হাজার ৩৫২ ভোটে এগিয়ে আছেন। এ রাজ্যে ইলেক্টোরাল ভোট আছে ছয়টি। ডেমোক্র্যট অধ্যুষিত এ রাজ্যকে বাইডেনের নিশ্চিত জয়ের স্থান মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের সবচেয়ে জনবহুল এলাকা ক্লার্ক কাউন্টির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা) ভোট গণনার নতুন তথ্য জানানো যাবে। তবে তা জানানো হয়নি। সেখানে দুই লাখ ভোট গণনা বাকি।
মিথ্যা বলায় ট্রাম্পের ভাষণের লাইভ সম্প্রচার বন্ধ : ফেসবুকের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্কের কাছেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়লেন ট্রাম্প। ভোট গণনা নিয়ে একের পর এক মিথ্যা ভাষণের অভিযোগে নজিরবিহীনভাবে ট্রাম্পের ভাষণের লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের একাধিক টিভি চ্যানেল।

ভোটের পর বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসে প্রথম জনসমক্ষে আসেন ট্রাম্প। সেখান থেকেই রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। তবে সেই ভাষণ শুরু হতে না হতেই তার সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় এবিসি, সিবিএস এবং এনবিসির মতো দেশটির প্রথম সারির টিভি নেটওয়ার্ক। ভাষণের মাঝেই ওই চ্যানেলগুলোর সঞ্চালক সরাসরি ট্রাম্পের ভাষণকে 'মিথ্যা' বলে আখ্যা দেন।

১৭ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তেজক ভাষণে ভোট চুরির মতো অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এমনকি, আইনিভাবে ভোট গণনা হলে তিনিই যে জিতছেন, সে দাবিও করেন তিনি। রিপাবলিকানদের থেকে ভোট চুরির জন্য ডেমোক্র্যাটরা বেআইনি পথ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ শোনা যায় ট্রাম্পের মুখে। তবে প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ যে পুরোপুরি মিথ্যা এবং কোনো তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা নয়, তা সাফ জানিয়েছেন আমেরিকার একাধিক টিভি চ্যানেলের সঞ্চালক।

ট্রাম্পের ভাষণের সম্প্রচার বন্ধের আগে দর্শকদের উদ্দেশে এমএসএনবিসি চ্যানেলের সঞ্চালক ব্রায়ান উইলিয়ামস বলেন, 'ওকে, আমরা এমন এক অদ্ভুত অবস্থায় পড়েছি যখন শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্টের (ভাষণের) সম্প্রচার বন্ধ করতে হচ্ছে না, তাকে শুধরেও দিতে হচ্ছে।' এর পরই ওই সম্প্রচার মাঝপথেই বন্ধ করে দেয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। যদিও সে সময় ভিউয়ারশিপের নিরিখে সবচেয়ে বেশি দর্শক টানছিল ওই চ্যানেলগুলো।

এমএসএনবিসি বা সিবিএসসেরর মতো চ্যানেলে ট্রাম্পের ভাষণ কোপের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ফক্স নিউজ বা সিএনএন তা বন্ধ করেনি। তবে প্রেসিডেন্টের ভাষণ নিয়ে আক্ষেপ করতে শোনা গেছে সিএনএন সঞ্চালকের মুখে। বিরোধীদের ভোট চুরির প্রসঙ্গে ওই চ্যানেলের সঞ্চালক জেক ট্যাপার বলেন, 'আমেরিকার পক্ষে কী দুঃখজনক রাত, যখন তাদের প্রেসিডেন্ট এ কথা (ভোট চুরির) বলেন। অন্যদের বিরুদ্ধে ভোট চুরির মিথ্যা অভিযোগ আনেন।' এখানেই থামেননি জেক।

তার মন্তব্য, 'কোনো প্রমাণ নেই। তবুও ভোটাচুরি করা নিয়ে একের পর এক মিথ্যা বলেই চলেছেন (ট্রাম্প)। শুধু কালিমা লেপন করা।' টিভি নেটওয়ার্কগুলোর কাছে 'ধাক্কা' খাওয়ার আগে ফেসবুকের কাছ থেকেই হুঁশিয়ারি পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ভোট গণনা চলাকালীন জেতার দাবি করায় তার টুইটে সতর্কীকরণের নোটিফিকেশন দেয় ফেসবুক।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।