ব্রেকিং নিউজ

৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই প্রতারক রিমান্ডে

news-details
আইন-আদালত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট জালিয়াতি করে নেত্রকোনায় অভিনব কায়দায় একটি চক্র সরকারি চাকরি দেয়ার নামে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা করে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় তিনটি ও নেত্রকোনা সদরে ২টি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতারক এসএম সাইদুর রহমানকে বাগেরহাট থেকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

ভুক্তভোগীদের পূর্বধলা থানায় করা দুই মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত আসামির রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইদুর রহমানের বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা থানার তালিমপুর গ্রামে। আসামি কখনও ৩৭তম বিসিএস ক্যাডারের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কখনও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনও সচিবালয়ের কর্মকর্তা, কখনও বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাসহ নানা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে  মিথ্যা পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করত। এমনকি নিজেকে একজন ভিআইপি হিসেবে পরিচয় দিত। তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে বঙ্গভবনের স্টিকার লাগিয়ে চলাচল করারও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও জানা যায়, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেজে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ভুয়া প্রজ্ঞাপন ও নিয়োগপত্র দিয়ে নেত্রকোনা থেকে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক। এ ঘটনার পর গত অক্টোবর মাসে র‌্যাব সাইদুর রহমানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আটক করে খুলনা পাইকগাছা থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

আসামির বিরুদ্ধে নেত্রকোনায় তিনটি অভিযোগ থাকায় খুলনার পাইকগাছা থানা পুলিশ তাকে নেত্রকোনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে প্রতারণার শিকার পূর্বধলা উপজেলার ভুক্তভোগী তারা মিয়া ও সোহাগ মিয়ার করা পৃথক দুইটি মামলায় তাকে নেত্রকোনা আদালতে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে আসামি সাইদুর রহমান পূর্বধলা থানায় করা দুটি মামলায় পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে।

প্রতারণার শিকার মামলার বাদী তারিম আহমেদ রিয়াদ বলেন, চাকরির কথা বলে সাইদুর ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। রেলওয়ে বিভাগে ভুয়া চাকরি দিয়ে প্রতারণা করেছে। এই প্রতারক সাইদুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd.com জালিয়াতি করে নিজেই একটি www.dpeo.gov.bd.com ওয়েবসাইট খুলে, যেখানে ভুক্তভোগীদের দেখানো হতো  সহকারী শিক্ষক পদে বিশেষ বিবেচনায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

এমনকি সাইদুর রহমান সরকারি দফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সিল এবং সই জালিয়াতি করে ভুক্তভোগীদের ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড, ভাইভা কার্ড, প্রজ্ঞাপননামা ও নিয়োগপত্র প্রদান করত। এসব জালিয়াতির বিষয় জানাজানি হলে আসামি সাইদুর রহমানের কাছে ভুক্তভোগীরা টাকা, ভোটার আইডি কার্ড ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সার্টিফিকেট ফেরত চাইলে সাইদুর রহমান হামলা-মামলার ভয়-ভীতি দেখায়। খুন জখম করার হুমকি প্রদান করে।

এ ব্যাপারে পূর্বধলা থানার ওসি তৌহিদুর রহমান বলেন, আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।