ব্রেকিং নিউজ

প্রেমিকার ফোন চুরি করে ফাঁদে ফেলত রাতুল

news-details
ক্রাইম নিউজ

আমাদের প্রতিবেদক :

শুরুতে তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো তরুণ মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল। এরপর সেই প্রেমিকার মোবাইল ফোন দিয়েই নানা ধরনের আপত্তিকর ছবি আর ভিডিও ধারন করা হতো। নানা সাক্ষাতে সুযোগ বুঝে নিজেই চুরি করে নিতো সেই ফোন। সেখানে থাকা আপত্তিকর ছবি আর ভিডিও নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে শুরু হতে তার ভয়ঙ্কর খেলা। কখনও নিজের পরিচয়ে, আবার অন্য পরিচয়ে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতো সে।

গত কয়েক মাসে অভিনব কায়দায় অন্তত ১০ তরুণী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয় বহুরূপী এই প্রতারক। সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার টিমের সদস্য তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ভয়ঙ্কর প্রতারণার কাহিনী বেরিয়ে আসে।

সিআইডির সাইবার ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ জানান, তারা বিভিন্ন তরুণী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই প্রতারককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে তুই তরুণীর কাছ থেকে চুরি করে নেওয়া দুইটি মোবাইল সেট, ১০টি সিম উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারক রাতুল বিভিন্ন সিম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ও অন্তত ৯ টি জিমেইল অ্যাকাউন্ট চালাতো।

সিআইডি জানায়, নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে রাতুল গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে ঢাকায় চলে আসে। এরপর রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় এক নেতার বাসায় টিবয় হিসেবে কাজ নেয়। এরপর মোহাম্মদপুরে পোশাক বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। কিন্তু সেই কাজ ছেড়ে দিয়ে মেয়েদের ব্লাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ করে চলেছিল।

রাতুলের ফাঁদে পা দেওয়া এক তরুণী জানান, ছয় মাস ধরে রাতুলের সঙ্গে তার পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। একদিন তারা তিন বন্ধু মিলে রাতুলের সঙ্গে লঞ্চে করে চাঁদপুর ঘুরতে যান। সেখানে তার অজান্তে রাতুল আপত্তিকর ভিডিও ধারন করেন। লঞ্চ থেকে নামার পর সে তার মোবাইল ফোনটি কথা বলার জন্য চেয়ে নেয়। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ওইদিন বিকেল থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, রাতুলের বিরুদ্ধে এই ধরনের আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে একেক জনের একেক ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তবে তার প্রতারণার 'অস্ত্র' ছিল প্রেমের ফাঁদ ও আপত্তিকর ছবি তোলা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।