ব্রেকিং নিউজ

গোল্ডেন মনিরের দখলে ২ শতাধিক প্লট

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক : 

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় গাড়ি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাব। দীর্ঘ ২০ বছরের অধিক সময় ধরে অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি এবং রাজউকের ভূমি দখল করে হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন গোল্ডেন মনির। রাজধানী ঢাকায় তার দখলে রয়েছে দুই শতাধিক প্লট। তিন কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল দুটো গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি। অথচ তিনি এক সময় ছিলেন রাজধানীর গাউসুল আজম মার্কেটে কাপড়ের দোকানের কর্মচারী।

অভিযান শেষে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তথ্য প্রমাণ হাতে নিয়ে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত থেকে শনিবার (২১ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত অব্যাহত অভিযানে রাজধানীর বাড্ডা থেকে গোল্ডেন মনিরকে অস্ত্র ও মাদক এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আশিক বিল্লাহ বলেন, তার বাসা থেকে দশটি দেশের বিভিন্ন পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখ টাকার মতো জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাসায় মিলেছে ৮ কেজি স্বর্ণ ও নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।

র‌্যাবের মুখপাত্র আরো বলেন, মূল যে অভিযুক্ত মো. মনির হোসেন, তার আরেকটি নাম রয়েছে গোল্ডেন মনির। গোল্ডেন মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী। স্বর্ণ চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তার একটি অটো কার সিলেকশন এর শোরুম রয়েছে। পাশাপাশি গাউসিয়াতে একটি স্বর্ণের দোকানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা তার বাসা থেকে দুটি বিলাসবহুল অনুমোদনবিহীন বিদেশি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি। যার এক একটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একইভাবে কার সিলেকশন শোরুম থেকেও তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনহীন গাড়ি আমরা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, মনির ৯০ দশকের দিকে গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে কোকারিজের ব্যবসা এবং লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হয় মনির। এ সময় সে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মালামাল দেশে আনার কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে স্বর্ণ চোরাচালান কারবারিদের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে ন‌ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধভাবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তার স্বর্ণ চোরাচালান কারবারিদের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর এবং ভারত। এসব দেশ থেকে সে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশের নিয়ে আসতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টার পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।