ব্রেকিং নিউজ

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাঙালির অবিনাশী চেতনার মূর্ত প্রতীক’

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক :

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাঙালির অবিনাশী চেতনার মূর্ত প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা। সব সৎ কর্মে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণার প্রতিচ্ছবি।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলন কক্ষে বিএলআরআইর দুই দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কের অপচেষ্টাকারীরা বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা নিয়ে বিতর্ক করছেন। কারণ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। এ বিষয় নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে এ দেশের স্বাধীনতাকামী কোটি কোটি মানুষ তাদের প্রতিহত করবে। আইনও তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, এ দেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে প্রত্যেকের মত ও বিশ্বাস প্রকাশের অধিকার রয়েছে। এ দেশ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার। এ দেশে যার যার ধর্ম সে পালন করবে। যার যার বিশ্বাস সে মেনে চলবে। এ বিশ্বাসে কাউকে জোর করে অন্য ধারণা দেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করতে হবে, অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করতে হবে। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে।

দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় খাতের একটি প্রাণিসম্পদ উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ খাতে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং সেটাকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি। গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন জাত সৃষ্টি করতে পারছি। এর মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি-আমিষের চাহিদা মেটানো যাবে, বেকারত্ব দূর করা যাবে। খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে প্রাণিসম্পদ খাত থেকে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করা, উদ্যোক্তা তৈরি ও বেকারত্ব দূর করার বড় একটি ক্ষেত্রও এ প্রাণিসম্পদ। এ খাতের বহুমুখী প্রয়োজন ও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। 

বিএলআরআইর বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী গবেষকরা গবেষণালব্ধ ফলাফল দিয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিএলআরআইর নতুন নতুন গবেষণা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়তা করছে। এ গবেষণা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগছে। প্রাণিসম্পদ খাতকে সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যে সব এলাকায় প্রাণিসম্পদ খাত সংকুচিত হয়ে গেছে সেসব এলাকায় প্রাণিসম্পদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। গবেষণা ক্ষেত্রে মেধাকে আরও বেশি সন্নিবেশিত করতে হবে। সবটুকু আন্তরিকতা ও একাগ্রতা দিয়ে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। সরকার সব সমর্থন দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকাশমান ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন। এমন কিছু আবিষ্কার করুন যা দিয়ে আমরা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারি। আশা করি আপনাদের গবেষণা দেশে ও দেশের বাইরে আমাদের গর্বিত করবে, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুবোল বোস মনি ও মো. তৌফিকুল আরিফ, যুগ্ম সচিব এস এম ফেরদৌস আলম, প্রাণিসসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিএলআরআইর বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বিএলআরআইর ৬০টি গবেষণা অগ্রগতি উপস্থাপন করা হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে গবেষণা কাজের পোস্টার প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।